পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনস্মতি ૨ઉ૧ দ্বহাইয়া দিতে থাকেন; সে বন্যা হঠাৎ আসে এবং হঠাৎ চলিয়া যায়, কিন্তু তাহা স্তরে স্তরে যে পলি রাখিয়া চলে তাহাতেই দেশের মাটিকে প্রাণপণ করিয়া তোলে; তাহার পর ফসলের দিন যখন আসে তখন তাঁহাদের কথা কাহারো মনে থাকে না বটে, কিন্তু সমস্ত জীবন যাঁহারা ক্ষতিবহন করিয়াই আসিয়াছেন, মৃত্যুর পরবতী এই ক্ষতিটুকুও তাঁহারা অনায়াসে স্বীকার করিতে পারবেন। এক দিকে বিলাতি কোম্পানি, আর-এক দিকে তিনি একলা—এই দুই পক্ষে বাণিজ্য-নৌযুদ্ধ ক্রমশই কিরুপ প্রচণ্ড হইয়া উঠিল তাহা খলনাবরিশালের লোকেরা এখনো বোধ করি সমরণ করিতে পারিবেন। প্রতিযোগিতার তাড়নায় জাহাজের পর জাহাজ তৈরি হইল, ক্ষতির পর ক্ষতি বাড়িতে লাগিল, এবং আয়ের অঙ্ক ক্রমশই ক্ষীণ হইতে হইতে টিকিটের মল্যের উপসগটা সম্পণে বিলুপ্ত হইয়া গেল-বরিশাল-খলনার স্টীমার লাইনে সত্যযুগ-আবিভাবের উপক্রম হইল। যাত্রীরা যে কেবল বিনা ভাড়ায় যাতায়াত শর করিল তাহা নহে, তাহারা বিনা মল্যে মিস্টান্ন খাইতে আরম্ভ করিল। ইহার উপরে বরিশালের ভলণ্টিয়ারের দল সবদেশী কণীতন গাহিয়া কোমর বধিয়া যাত্রী-সংগ্রহে লাগিয়া গেল। সুতরাং জাহাজে যাত্রীর অভাব হইল না কিন্তু আর সকলপ্রকার অভাবই বাড়িল বই কমিল না। অঙ্কশাসের মধ্যে সবদেশহিতৈষিতার উৎসাহ প্রবেশ করিবার পথ পায় না; কাঁতন যতই জমক, উত্তেজনা যতই বাড়কে, গণিত আপনার নামতা ভুলিতে পারিল না, সতরাং তিন-ত্রিকখে-নয় ঠিক তালে তালে ফড়িঙের মতো লাফ দিতে দিতে ঋণের পথে অগ্রসর হইতে লাগিল। অব্যবসায়ী ভাবক মানুষের একটা কুগ্রহ এই যে, লোকেরা তাঁহাদিগকে অতি সহজেই চিনিতে পারে কিন্তু তাঁহারা লোক চিনিতে পারেন না; অথচ তাহারা যে চেনেন না এইটুকু মাত্র শিখিতে তাঁহাদের বিস্তর খরচ এবং ততোধিক বিলম্বব হয় এবং সেই শিক্ষা কাজে লাগানো তাঁহাদের দ্বারা ইহজীবনেও ঘটে না। যাত্রীরা যখন বিনা মল্যে মিস্টান্ন খাইতেছিল তখন জ্যোতিদাদার কমচারীরা যে তপস্বীর মতো উপবাস করিতেছিল এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় নাই—অতএব যাত্রীদের জন্যও জলযোগের ব্যবস্থা ছিল, কমচারীরাও বঞ্চিত হয় নাই, কিন্তু সকলের চেয়ে মহত্তম লাভ রহিল জ্যোতিদাদার—সে তাঁহার এই সবসব-ক্ষতিস্বীকার। তখন খলনা-বরিশালের নদীপথে প্রতিদিনের এই জয়পরাজয়ের সংবাদআলোচনায় আমাদের উত্তেজনার অন্ত ছিল না। অবশেষে একদিন খবর