পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবনস্মতি २6> জীবনটা আবিনের একটা বিস্তীর্ণ স্বচ্ছ অবকাশের মাঝখানে দেখা যায়— সেই শিশিরে ঝলমল-করা সরস সবজের উপর সোনা-গলানো রেীদের মধ্যে মনে পড়িতেছে, দক্ষিণের বারান্দায় গান বধিয়া তাহাতে যোগিয়া সরে লাগাইয়া গন গন করিয়া গাহিয়া বেড়াইতেছি—সেই শরতের সকালবেলায় : আজি শরততপনে প্রভাতস্বপনে কী জানি পরান কী যে চায়। বর্ষার দিনে কেবল ঘনঘটা এবং বর্ষণ। শরতের দিনে মেঘরেীদের খেলা আছে, কিন্তু তাহাই আকাশকে আবত করিয়া নাই, এ দিকে খেতে খেতে ফসল ফলিয়া উঠিতেছে। তেমনি আমার কাব্যলোকে যখন বর্ষার দিন ছিল তখন কেবল ভাবাবেগের বাপ এবং বায় এবং বর্ষণ। তখন এলোমেলো ছন্দ এবং অস্পষ্ট বাণী। কিন্তু শরৎকালের কড়ি ও কোমল’এ কেবলমাত্র আকাশে মেঘের রঙ নহে, সেখানে মাটিতে ফসল দেখা দিতেছে। এবার বাস্তব সংসারের সঙ্গে কারবারে ছন্দ ও ভাষা নানাপ্রকার রূপ ধরিয়া উঠিবার চেষ্টা করিতেছে। বিদায়গ্রহণ এবারে একটা পালা সাঙ্গ হইয়া গেল। জীবনে এখন ঘরের ও পরের, অন্তরের ও বাহিরের মেলামেলির দিন কুমে ঘনিষ্ঠ হইয়া আসিতেছে। এখানে কত ভাঙাগড়া, কত জয়পরাজয়, কত সংঘাত ও সম্মিলন। এই-সমস্ত বাধা বিরোধ ও বক্তার ভিতর দিয়া আনন্দময় নৈপণ্যের সহিত আমার জীবন দেবতা যে একটি অন্তরতম অভিপ্রায়কে বিকাশের দিকে লইয়া চলিয়াছেন তাহাকে উদ্ঘাটিত করিয়া দেখাইবার শক্তি আমার নাই। সেই আশ্চর্য পরম রহস্যটকুই যদি না দেখানো যায় তবে আর যাহা-কিছই দেখাইতে যাইব তাহাতে পদে পদে কেবল ভুল বঝানোই হইবেই মতিকে বিশ্লেষণ করিতে গেলে কেবল মাটিকেই পাওয়া যায়, শিল্পীর আনন্দকে পাওয়া যায় না। অতএব খাসমহালের দরজার কাছে পর্যন্ত আসিয়া এইখানেই আমার জীবনসমতির পাঠকদের কাছ হইতে আমি বিদায় গ্রহণ করিলাম। >○> げ->