পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাপানযাত্রী যায়ারম্ভ তোসামার জাহাজ। ১৯ বৈশাখ, ১৩২৩। বোবাই থেকে যতবার যাত্রা করেছি জাহাজ চলতে দেরি করে নি। কলকাতার জাহাজে যাত্রার আগের রাত্রে গিয়ে বসে থাকতে হয়। এটা ভালো লাগে না। কেননা, যাত্রা করার মানেই মনের মধ্যে চলার বেগ সঞ্চয় করা। মন যখন চলবার মখে তখন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা তার এক শক্তির সঙ্গে তার আর-এক শক্তির লড়াই বাধানো। বাড়ির লোকেরা সকলেই জাহাজে চড়িয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে গেল, বন্ধরা ফলের মালা গলায় পরিয়ে দিয়ে বিদায় দিলে, কিন্তু জাহাজ চলল না, অর্থাৎ যারা থাকবার তারাই গেল আর যেটা চলবার সেটাই সিথর হয়ে রইল—বাড়ি গেল সরে আর তরী রইল দাঁড়িয়ে। রাত্রে বাইরে শোওয়া গেল, কিন্তু এ কেমনতরো বাইরে। জাহাজের মাসতুলে মাসতুলে আকাশটা যেন ভীমের মতো শরশয্যায় শয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে। কোথাও শান্যরাজ্যের ফাঁকা নেই। অথচ বস্তুরাজ্যের পস্টতাও নেই। কোনো-একটি কবিতায় প্রকাশ করেছিলাম যে, আমি নিশীথরাত্রির সভাকবি। আমার বরাবর এ কথাই মনে হয় যে, দিনের বেলাটা মতলোকের, আর রাত্রিবেলাটা সরলোকের। মানুষ ভয় পায়, মানুষ কাজকম করে, মানুষ তার পায়ের কাছের পথটা সপস্ট করে দেখতে চায়, এইজন্যে এতবড়ো একটা আলো জালতে হয়েছে। দেবতার ভয় নেই, দেবতার কাজ নিঃশব্দে গোপনে, দেবতার চলার সঙ্গে সতব্ধতার কোনো বিরোধ নেই, এইজন্যেই অসীম অন্ধকার দেবসভার আস্তরণ । দেবতা রাত্রেই আমাদের বাতায়নে এসে দেখা দেন। দিন আলোকের দ্বারা আবিল, অন্ধকারই পরম নিম’ল। অন্ধকার রারি সমদ্রের মতো; তা অঞ্জনের মতো কালো, কিন্তু তব নিরঞ্জন। আর দিন নদীর মতো; তা কালো নয়, কিন্তু পকিল। রাত্রির সেই অতলপশ* অন্ধকারকেও সেদিন সেই খিদিরপরের জেটির উপর মলিন দেখলাম। মনে হল, দেবতা স্বয়ং মুখ মলিন করে রয়েছেন। সমদ্রে ঝড় ২১ বৈশাখ। বহস্পতিবার বিকেলে সমদ্রের মোহনায় পাইলট নেবে গেল। এর কিছর আগে থাকতেই সমদ্রের রপে দেখা দিয়েছে। তার কলের বেড়ি