পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२७ २ সংকলন রাগী মানুষ কথা কইতে না পারলে যেমন ফলে ফলে ওঠে, সকালবেলাকার মেঘগলোকে তেমনি বোধ হল। বাতাস কেবলই শ ষ স এবং জল কেবলই বাকি অত্যপথবর্ণ য র ল ব হ নিয়ে চণ্ডীপাঠ বাধিয়ে দিলে, আর মেঘগলো জটা দলিয়ে ভ্রাকৃটি করে বেড়াতে লাগল। অবশেষে মেঘের বাণী জলধারায় নেবে পড়ল। নারদের বীণাধর্মনিতে বিষ্ণ গঙ্গাধারায় বিগলিত হয়েছিলেন একবার, আমার সেই পৌরাণিক কথা মনে এসেছিল। কিন্তু এ কোন নারদ প্রলয়বীণা বাজাচ্ছে। এর সঙ্গে নন্দীভূতগীর যে মিল দেখি, আর ও দিকে বিষ্ণর সঙ্গে রদ্রের প্রভেদ ঘচে গেছে। ঝড় কুমেই বেড়ে চলল। মেঘের সঙ্গে ঢেউয়ের সঙ্গে কোনো ভেদ রইল না। সমুদ্রের সে নীল রঙ নেই-চারি দিক ঝাপসা, বিবর্ণ। ছেলেবেলায় আরব্য উপন্যাসে পড়েছিলাম, জেলের জালে যে ঘড়া উঠেছিল তার ঢাকনা খলতেই তার ভিতর থেকে ধোঁয়ার মতো পাকিয়ে পাকিয়ে প্রকাণ্ড দৈত্য বেরিয়ে পড়ল। আমার মনে হল, সমুদ্রের নীল ঢাকনাটা কে খলে ফেলেছে, আর ভিতর থেকে ধোঁয়ার মতো লাখো লাখো দৈত্য পরস্পর ঠেলাঠেলি করতে করতে আকাশে উঠে পড়ছে। জাপানি মাল্লারা ছটোছটি করছে, কিন্তু তাদের মুখে হাসি লেগেই আছে। তাদের ভাব দেখে মনে হয়, সমুদ্র যেন অট্টহাস্যে জাহাজটাকে ঠাট্টা করছে মাত্র; পশ্চিম দিকের ডেকের দরজা প্রভৃতি সমস্ত বন্ধ, তব সে-সব বাধা ভেদ করে এক-একবার জলের ঢেউ হড়মড় করে এসে পড়ছে, আর তাই দেখে ওরা হো হো করে উঠছে। কাপেতনের যে কোনো উৎকন্ঠা আছে, বাইরে থেকে তার কোনো লক্ষণ দেখতে পেলম না। ঘরে আর বসে থাকতে পারলাম না। ভিজে শাল মুড়ি দিয়ে আবার বাইরে এসে বসলাম। এত তুফানেও যে আমাদের ডেকের উপর আছড়ে আছড়ে ফেলছে না, তার কারণ জাহাজ আকন্ঠ বোঝাই। ভিতরে যার পদার্থ নেই তার মতো দোলায়িত অবস্থা আমাদের জাহাজের নয়। মৃত্যুর কথা অনেকবার মনে হল, চারি দিকেই তো মৃত্যু, দিগন্ত থেকে দিগন্ত পর্যন্ত মৃত্যু—আমার প্রাণ এর মধ্যে এতটুকু। এই অতি-ছোটোটার উপরেই কি সমস্ত আসথা রাখব, আর এই এত-বড়োটাকে কিছু বিশ্বাস করব না।—বড়োর উপরে ভরসা রাখাই ভালো । সন্ধ্যার সময় ঝড় থেমে গেল। উপরে গিয়ে দেখি, জাহাজটা সমুদ্রের কাছে এতক্ষণ ধরে যে চড়চাপড় খেয়েছে তার অনেক চিহ্ন আছে। কাপেতনের ঘরের একটা প্রাচীর ভেঙে গিয়ে তাঁর আসবাবপত্র সমস্ত ভিজে গেছে। একটা ,