পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२७8 সংকলন আকৃতির হরির লন্ঠ, তেমনি রঙের। রঙ যে কতরকম হতে পারে তার সীম নেই। রঙের তান উঠছে, তানের উপর তান; তাদের মিলও যেমন তাদের অমিলও তেমনি; তারা বিরদ্ধে নয়, অথচ বিচিত্র। রঙের সমারোহেও যেমন প্রকৃতির বিলাস, রঙের শান্তিতেও তেমনি। সযাস্তের মহতে পশ্চিমআকাশ যেখানে রঙের ঐশ্বব্য পাগলের মতো দই হাতে বিনা প্রয়োজনে ছড়িয়ে দিচ্ছে সেও যেমন আশ্চর্য, পব-আকাশে যেখানে শান্তি এবং সংযম, সেখানেও রঙের পেলবতা, কোমলতা, অপরিমেয় গভীরতা তেমনি আশ্চয"। প্রকৃতির হাতে অপৰ্যাপ্তও যেমন মহৎ হতে পারে, পর্যাপ্তও তেমনি; সন্যাস্তে সযোদয়ে প্রকৃতি আপনার ডাইনে বাঁয়ে একই কালে সেটা দেখিয়ে দেয়; তার খেয়াল আর ধ্রুপদ একই সঙ্গে বাজতে থাকে, অথচ কেউ কারো মহিমাকে আঘাত করে না । তার পরে, রঙের আভায়-আভায় জল যে কত বিচিত্র কথাই বলতে পারে তা কেমন করে বণনা করব। সে তার জলতরঙ্গে রঙের যে গৎ বাজাতে থাকে, তাতে সরের চেয়ে শ্রীতি অসংখ্য। আকাশ যে সময়ে তার প্রশান্ত স্তব্ধতার উপর রঙের মহতোমহীয়ানকে দেখায়, সমুদ্র সেই সময় তার ছোটো ছোটো লহরীর কক্ষপনে রঙের অণোরণীয়ানকে দেখাতে থাকে, তখন আশ্চর্যের অন্ত পাওয়া যায় না। সমুদ্র-আকাশের গীতিনাট্যলীলায় রদ্রের প্রকাশ কিরকম দেখা গেছে, সে পাবেই বলেছি। আবার কালও তিনি তাঁর ডমর বাজিয়ে অট্টহাস্যে আরএক ভঙ্গীতে দেখা দিয়ে গেলেন। সকালে আকাশ জড়ে নীল মেঘ এবং ধোঁয়ালো মেঘ সতরে স্তরে পাকিয়ে পাকিয়ে ফলে ফলে উঠল। মনুষলধারে বষ্টি। বিদ্যুৎ আমাদের জাহাজের চার দিকে তার তলোয়ার খেলিয়ে বেড়াতে লাগল। তার পিছনে পিছনে বজের গজন। একটা বজ্র ঠিক আমাদের সামনে জলের উপর পড়ল, জল থেকে একটা বাহুপরেখা সাপের মতো ফেসি করে উঠল। আর-একটা বজ্র পড়ল আমাদের সামনেকার মাসতুলে। রন্দ্ৰ যেন সাইটজারল্যান্ডের ইতিহাসবিশ্রত বীর উইলিয়ম টেল-এর মতো তাঁর অদ্ভুত ধনবিদ্যার পরিচয় দিয়ে গেলেন; মাসতুলের ডগাটায় তাঁর বাণ লাগল, আমাদের সপশ করল না। এই ঝড়ে আমাদের সঙ্গী আর-একটা জাহাজের প্রধান মাতুল বিদীর্ণ হয়েছে শনলম। মানুষ যে বাঁচে এই আশ্চর্য। ৫ জ্যৈষ্ঠ। এই কয়দিন আকাশ এবং সমাদের দিকে চোখ ভরে দেখছি আর মনে হচ্ছে, অন্তরের রঙ তো শত্র নয়, তা কালো কিবা নীল। এই