পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাপানযাত্রী ২৬৭ অভ্যর্থনা গ্রহণ করবার জন্যে। তখন কেবল একটিমাত্র ছোটো নীলাভ পাহাড় মানস-সরোবরের মস্ত একটি নীল পন্মের কুড়িটির মতো জলের উপরে জেগে রয়েছে। তিনি পিথর নেত্রে এইটুকু কেবল দেখে নীচে নেবে গেলেন, তাঁর সেই চোখে ঐ পাহাড়টাকুকে দেখা আমাদের নেই—আমরা দেখছি নতনকে, তিনি দেখছেন তাঁর চিরন্তনকে। জাহাজ যখন একেবারে বন্দরে এসে পৌঁছল তখন মেঘ কেটে গিয়ে সয* উঠেছে। বড়ো বড়ো জাপানি অপসরা নৌকা, আকাশে পাল উড়িয়ে দিয়ে, যেখানে বর্ণদেবের সভাপ্রাঙ্গণে সযদেবের নিমন্ত্রণ হয়েছে সেইখানে নত্য করছে। প্রকৃতির নাট্যমঞ্চে বাদলার যবনিকা উঠে গিয়েছে। ২২ জ্যৈষ্ঠ। জাপানে শহরের চেহারায় জাপানিত্ব বিশেষ নেই, মানুষের সাজসজা থেকেও জাপান ক্রমশ বিদায় নিচ্ছে। অর্থাৎ, জাপান ঘরের পোশাক ছেড়ে আপিসের পোশাক ধরেছে। আজকাল পথিবী-জোড়া একটা আপিসরাজ্য বিস্তীণ হয়েছে, সেটা কোনো বিশেষ দেশ নয়। যেহেতু আপিসের সন্টি আধুনিক য়ুরোপ থেকে, সেইজন্যে এর বেশ আধুনিক য়রোপের । কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে এই বেশে মানুষের বা দেশের পরিচয় দেয় না, আপিসরাজ্যের পরিচয় দেয়। এইজন্যে জাপানের শহরের রাস্তায় বেরোলেই, প্রধানভাবে চোখে পড়ে জাপানের মেয়েরা। তখন বুঝতে পারি, এরাই জাপানের ঘর, জাপানের দেশ। এরা আপিসের নয়। এখানকার মেয়েরাই জাপানের বেশে জাপানের সম্মানরক্ষার ভার নিয়েছে। ওরা দরকারকেই সকলের চেয়ে বড়ো করে খাতির করে নি; সেইজন্যেই ওরা নয়নমনের আনন্দ । একটা জিনিস এখানে পথে ঘাটে চোখে পড়ে। রাস্তায় লোকের ভিড় আছে, কিন্তু গোলমাল একেবারে নেই। এরা যেন চে'চাতে জানে না; লোকে বলে, জাপানের ছেলেরা সন্ধ কাঁদে না। আমি এ পর্যন্ত একটি ছেলেকেও কাঁদতে দেখি নি। পথে মোটরে করে যাবার সময়ে মাঝে মাঝে যেখানে ঠেলা-গাড়ি প্রভৃতি বাধা এসে পড়ে, সেখানে মোটরের চালক শান্তভাবে অপেক্ষা করে—গাল দেয় না, হাঁকাহকি করে না। পথের মধ্যে হঠাৎ একটা বাইসিকল মোটরের উপরে এসে পড়বার উপক্রম করলে—আমাদের দেশের চালক এ অবস্থায় বাইসিকল-আরোহীকে অনাবশ্যক গাল না দিয়ে থাকতে পারত না। এ লোকটা ভ্ৰক্ষেপ মাত্র করলে না। এখানকার বাঙালিদের কাছে শনতে পেলাম যে, রাস্তায় দই বাইসিকলে, কিবা গাড়ির সঙ্গে ফলের ঠোকাঠকি হয়ে যখন রক্তপাত হয়ে যায়, তখনো উভয় পক্ষ চে'চামেচি গালমন্দ না >bf