পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૧o সংকলন বসে থাকতে হয়। গহস্বামীর সঙ্গে যাবামারই দেখা হয় না। মনকে" শান্ত করে সিথর করবার জন্যে, ক্ৰমে ক্ৰমে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। আস্তে আস্তে দটো-তিনটে ঘরের মধ্যে বিশ্রাম করতে করতে শেষে আসল জায়গায় যাওয়া গেল। সমস্ত ঘরই নিস্তব্ধ, যেন চিরপ্রদোষের ছায়াবত— কারো মুখে কথা নেই। মনের উপর এই ছায়াঘন নিঃশব্দ নিস্তব্ধতার সম্মোহন ঘনিয়ে উঠতে থাকে। অবশেষে ধীরে ধীরে গহমবামী এসে নমস্কারের দ্বারা আমাদের অভ্যর্থনা করলেন। ঘরগুলিতে আসবাব নেই বললেই হয়, অথচ মনে হয়, যেন এ-সমস্ত ঘর কী-একটাতে পাণ, গম গম করছে। একটিমাত্র ছবি কিবা একটিমাত্র পাত্র কোথাও আছে। নিমন্ত্রিতেরা সেইটি বহযত্নে দেখে দেখে নীরবে তৃপ্তিলাভ করেন। যে জিনিস যথার্থ সন্দের, তার চারি দিকে মস্ত একটি বিরলতার অবকাশ থাকা চাই। ভালো জিনিসগুলিকে ঘেষাঘোষি করে রাখা তাদের অপমান করা—সে যেন সতী সীকে সতিনের ঘর করতে দেওয়ার মতো। ক্লমে ক্ৰমে অপেক্ষা করে করে সতব্ধতা ও নিঃশব্দতার দ্বারা মনের ক্ষধাকে জাগ্রত করে তুলে, তার পরে এইরকম দটি-একটি ভালো জিনিস দেখালে সে যে কী উক্তজবল হয়ে ওঠে এখানে এসে তা পস্ট বুঝতে পারলাম। তার পরে গহস্বামী এসে বললেন—চা তৈরি করা এবং পরিবেশনের ভার তিনি তাঁর মেয়ের উপরে দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে এসে, নমস্কার করে চা তৈরিতে প্রবত্ত হলেন। তাঁর প্রবেশ থেকে আরম্ভ করে, চা তৈরির প্রত্যেক অঙ্গ যেন ছন্দের মতো। ধোয়া মোছা, আগন জালা, চা-দানির ঢাকা খোলা, গরম জলের পাত্র নামানো, পেয়ালায় চা ঢালা, অতিথির সম্মখে এগিয়ে দেওয়া, সমস্ত এমন সংযম এবং সৌন্দযে মন্ডিত যে, সে না দেখলে বোঝা যায় না। এই চা-পানের প্রত্যেক আসবাবটি দলভ ও সন্দের। অতিথির কতব্য হচ্ছে, এই পারগুলিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একান্ত মনোযোগ দিয়ে দেখা। প্রত্যেক পাত্রের স্বতন্ত্র নাম এবং ইতিহাস। কত-যে তার যত্ন, সে বলা যায় না । সমস্ত ব্যাপারটা এই। শরীরকে মনকে একান্ত সংযত করে, নিরাসক্ত প্রশান্ত মনে সৌন্দৰ্যকে নিজের প্রকৃতির মধ্যে গ্রহণ করা। ভোগীর ভোগোন্মাদ নয়—কোথাও লেশমাত্র উচ্ছৃঙ্খলতা বা অমিতাচার নেই; মনের উপরতলায় সবাদা যেখানে নানা সবাথের আঘাতে, নানা প্রয়োজনের হাওয়ায়,