পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাপানযাত্রী 는 3 প্রশাখার ভিতর দিয়ে জ্যোতিলোকের দিকে উঠছে। অথচ আলোয় আলোময়— তারই মাঝখানে অন্ধের প্রার্থনা। জাপানের মন চোখের সামনে পদ্ট দেখতে পাচ্ছি, এসিয়ার এই প্রান্তবাসী জাত য়রোপীয় সভ্যতার সমস্ত জটিল ব্যবস্থাকে সম্পণে জোরের সঙ্গে এবং নৈপুণ্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারছে। এর একমাত্র কারণ, এরা যে কেবল ব্যবস্থাটাকেই নিয়েছে তা নয়, সঙ্গে সঙ্গে মনটাকেও পেয়েছে। নইলে পদে পদে অসের সঙ্গে অসীর বিষম ঠোকাঠুকি বেধে যেত, নইলে ওদের শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষার লড়াই কিছুতেই মিটত না, এবং বম ওদের দেহটাকে পিষে लिऊ । য়রোপের সভ্যতা একান্তভাবে জঙ্গম মনের সভ্যতা, তা পথাবর মনের সভ্যতা নয়। এই সভ্যতা ক্ৰমাগতই নতন চিন্তা, নতন চেষ্টা, নতন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বিপ্লবতরঙ্গের চড়ায় চড়ায় পক্ষ বিস্তার করে উড়ে চলেছে। এসিয়ার মধ্যে একমাত্র জাপানের মনে সেই সবাভাবিক চলন-ধম’ থাকাতেই, জাপান সহজেই য়ুরোপের ক্ষিপ্র তালে চলতে পেরেছে, এবং তাতে করে তাকে প্রলয়ের আঘাত সইতে হয় নি। কারণ, উপকরণ সে যা-কিছর পাচ্ছে তার দ্বারা সে সটি করছে; সুতরাং নিজের বর্ধিষ্ণ জীবনের সঙ্গে এ-সমস্তকে সে মিলিয়ে নিতে পারছে। এই-সমস্ত নতুন জিনিস যে তার মধ্যে কোথাও কিছল বাধা পাচ্ছে না তা নয়, কিন্তু সচলতার বেগেই সেই বাধা ক্ষয় হয়ে চলেছে। প্রথম-প্রথম যা অসংগত অদভুত হয়ে দেখা দিচ্ছে, ক্ৰমে ক্লমে তার পরিবতন ঘটে সুসংগতি জেগে উঠছে। জাপান য়রোপের কাছ থেকে কমের দীক্ষা আর অসের দীক্ষা গ্রহণ করেছে। তার কাছ থেকে বিজ্ঞানের শিক্ষাও সে লাভ করতে বসেছে। কিন্তু, আমি যতটা দেখেছি তাতে আমার মনে হয়, য়ুরোপের সঙ্গে জাপানের একটা অন্তরতর জায়গায় অনৈক্য আছে। যে গঢ় ভিত্তির উপরে য়-রোপের মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত সেটা আধ্যাত্মিক। সেটা কেবলমাত্র কম নৈপুণ্য নয়, সেটা তার নৈতিক আদশ"। এইখানে জাপানের সঙ্গে য়রোপের মলগত প্রভেদ। মনুষ্যত্বের যে সাধনা অমতলোককে মানে এবং সেই অভিমুখে চলতে থাকে, যে সাধনা কেবলমাত্র সামাজিক ব্যবসথার অঙ্গ নয়, যে সাধনা সাংসারিক প্রয়োজন বা সবজাতিগত সবাথকেও অতিক্রম করে আপনার লক্ষ্য পথাপন করেছে—সেই সাধনার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে য়রোপের মিল যত সহজ,