পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२ সংকলন সামর্থ্য লাভ করিয়াছে। অথচ বাংলাসাহিত্যের কোনো পরিচয় কোনো আদর রাজম্বারে ছিল না—আমাদের মতো অধীন জাতির পক্ষে সেই প্রলোভনের অভাব কম নয়—বাহিরের সে-সমস্ত অনাদরকে গণ্য না করিয়া বিলাতি বাজারের যাচনদারের দটির বাহিরে কেবলমাত্র নিজের প্রাণের আনন্দেই সে আজ পথিবীতে চিরপ্রতিষ্ঠা লাভের যোগ্য হইতেছে। এতদিন ধরিয়া আমাদের সাহিত্যিকেরা যদি ইংরেজি কপিবাক নকল করিয়া আসিতেন তাহা হইলে জগতে যে প্রভূত আবর্জনার সস্টি হইত তাহা কল্পনা করিলেও গায়ে काँप्लेो लिग्ना छैठे । এতদিন ধরিয়া ইংরেজি বিদ্যার যে কলটা চলিতেছে সেটাকে মিসিখানার যোগে বদল করা আমাদের সাধ্যায়ত্ত নহে। তার দটো কারণ আছে। এক, কলটা একটা বিশেষ ছাঁচে গড়া, একেবারে গোড়া হইতে সে ছাঁচ বদল করা সোজা কথা নয়। দ্বিতীয়ত, এই ছাঁচের প্রতি ছাঁচ-উপাসকদের ভক্তি এত সদঢ় যে, মন কিছতেই ঐ ছাঁচের মঠা হইতে মন্তি পায় না। ইহার সংস্কারের একটিমাত্র উপায় আছে—এই ছাঁচের পাশে একটা সজীব জিনিসকে অলপ একটা পথান দেওয়া। তাহা হইলে সে তক না করিয়া, বিরোধ না করিয়া, কলকে আচ্ছন্ন করিয়া একদিন মাথা তুলিয়া উঠিবে এবং কল যখন আকাশে ধোঁয়া উড়াইয়া ঘঘর শব্দে হাটের জন্য মালের বসতা উদ্গার করিতে থাকিবে তখন এই বনস্পতি নিঃশব্দে দেশকে ফল দিবে, ছায়া দিবে এবং করিবে। কিন্তু ঐ কলটার সঙ্গে রফা করিবার কথাই বা কেন বলা। ওটা দেশের আপিস-আদালত, পলিসের থানা, জেলখানা, পাগলাগারদ, জাহাজের জেটি পাটের কল প্রভৃতি আধুনিক সভ্যতার আসবাবের সামিল হইয়া থাক-না। আমাদের দেশ যেখানে ফল চাহিতেছে, ছায়া চাহিতেছে, সেখানে কোঠাবাড়িগলা ছাড়িয়া একবার মাটির দিকেই নামিয়া আসি না কেন। গরের চারি দিকে বৈদিককালে যেমন ছিল তপোবন, বৌদ্ধকালে যেমন ছিল নালন্দা তক্ষশিলা, ভারতের দগতির দিনেও যেমন করিয়া টোল চতুপাঠী দেশের প্রাণ হইতে প্রাণ লইয়া দেশকে প্রাণ দিয়া রাখিয়াছিল, তেমনি করিয়াই বিশ্ববিদ্যালয়কে জীবনের বারা জীবলোকে সন্টি করিয়া তুলিবার কথাই সাহস করিয়া বলা বাক-না কেন। সন্টির প্রথম মঙ্গ—আমরা চাই।' এই মন্ত্র কি দেশের চিত্তকুহর হইতে