পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পশ্চিম্যায়ীর ডায়ারি २११ না। সন্টি-উৎসের মখে কী-একটা কাণ্ড আছে, সে এক ধারাকে দই ধারায় ভাগ করে। বীজ ছিল নিতান্ত এক, তাকে বিধা করে দিয়ে দখানি কচি পাতা বেরোল, তখনি সেই বীজ পেল তার বাণী; নইলে সে বোবা, নইলে সে কৃপণ, আপন ঐশ্বয আপনি ভোগ করতে জানে না। জীব ছিল একা, বিদীর্ণ হয়ে সত্ৰী-পরীষে সে দই হয়ে গেল। তখনি তার সেই বিভাগের ফাঁকের মধ্যে বসল তার ডাক-বিভাগ। ডাকের পর ডাক, তার অন্ত নেই। বিচ্ছেদের এই ফাঁক একটা বড়ো সম্পদ; এ নইলে সব চুপ, সব বন্ধ। এই ফাঁকটার বকের ভিতর দিয়ে একটা অপেক্ষার ব্যথা, একটা আকাংক্ষার টান টন টন করে উঠল; দিতে চাওয়ার আর পেতে চাওয়ার উত্তর-প্রত্যুত্তর এপারে ওপারে চালাচালি হতে লাগল। এতেই দলে উঠল সষ্টিতরঙ্গ; বিচলিত হল ঋতুপৰ্যায়—কখনো-বা গ্রীষ্মের তপস্যা, কখনো বর্ষার গলাবন, কখনো-বা শীতের সংকোচ, কখনো-বা বসন্তের দাক্ষিণ্য। একে যদি মায়া বল তো দোষ নেই, কেননা এই চিঠিলিখনের অক্ষরে আবছায়া, ভাষায় ইশারা; এর আবির্ভাব-তিরোভাবের পরো মানে সব সময়ে বোঝা যায় না। যাকে চোখে দেখা যায় না সেই উত্তাপ কখন আকাশপথ থেকে মাটির আড়ালে চলে যায়; মনে ভাবি, একেবারেই গেল বঝি। কিছর কাল যায়, একদিন দেখি, মাটির পদ ফাঁক করে দিয়ে একটি অঙ্কুর উপরের দিকে কোন-এক আর-জন্মের চেনা মুখ খজছে। যে উত্তাপটা ফেরার হয়েছে বলে সেদিন রব উঠল সেই তো মাটির তলার অন্ধকারে সেধিয়ে কোন ঘামিয়ে-পড়া বীজের দরজায় বসে বসে ঘা দিচ্ছিল। এমনি করেই কত অদশ্য ইশারার উত্তাপ এক হৃদয়ের থেকে আর-এক হৃদয়ের ফাঁকে ফাঁকে কোন চোরকোঠায় গিয়ে ঢোকে, সেখানে কার সঙ্গে কী কানাকানি করে জানি নে, তার পরে কিছুদিন বাদে একটি নবীন বাণী পদার বাইরে এসে বলে এসেছি। ! আমার সহযাত্রী বন্ধ আমার ডায়ারি পড়ে বললেন, ‘তুমি ধরণীর চিঠিপড়ায় আর মানুষের চিঠি-পড়ায় মিশিয়ে দিয়ে একটা যেন কী গোল পাকিয়েছ। কালিদাসের মেঘদতে বিরহী-বিরহিণীর বেদনাটা বেশ পট বোঝা যাচ্ছে। তোমার এই লেখায় কোনখানে রপক, কোনখানে সাদা কথা, বোঝা শক্ত হয়ে উঠেছে।" আমি বললাম, কালিদাস যে মেঘদত কাব্য লিখেছেন সেটাও বিশ্বের কথা। নইলে তার এক প্রান্তে নিবাসিত যক্ষ রামগিরিতে, আর-এক প্রান্তে বিরহিণী কেন অলকাপরীতে। সবগমতের এই বিরহই তো সকল সটিতে।