পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন বিশ্বের একটা বাইরের দিক আছে, সেই দিকে সে মন্সত একটা কল। সে দিকে তার বাঁধা নিয়মের একচুল এদিক-ওদিক হবার জো নেই। এই বিরাট বস্তুবিশব আমাদের নানা রকমে বাধা দেয়; কুড়েমি করে বা মুখতা করে যে তাকে এড়াতে গেছে বাধাকে সে ফাঁকি দিতে পারে নি, নিজেকেই ফাঁকি দিয়েছে; অপর পক্ষে বস্তুর নিয়ম যে শিখেছে, শুধ যে বস্তুর বাধা তার কেটেছে তা নয়, বস্তু স্বয়ং তার সহায় হয়েছে—বস্তুবিশেবর দগম পথে ছাটে চলবার বিদ্যা তার হাতে, সকল জায়গায় সকলের আগে গিয়ে সে পৌছতে পারে বলে বিশ্বভোজের প্রথম ভাগটা পড়ে তারই পাতে; আর পথ হাঁটতে হাঁটতে যাদের বেলা বয়ে যায় তারা গিয়ে দেখে যে, তাদের ভাগ্যে হয় অতি সামান্যই বাকি, নয় সমস্তই ফাঁকি। এমন অবস্থায়, পশ্চিমের লোকে যে বিদ্যার জোরে বিশ্ব জয় করেছে সেই বিদ্যাকে গাল পাড়তে থাকলে দুঃখ কমবে না, কেবল অপরাধ বাড়বে। কেননা বিদ্যা যে সত্য। বিশ্বব্রহমাণ্ডে নিয়মের কোথাও একটও ক্ৰটি থাকতে পারে না, এই বিশ্বাসটাই বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের জোরেই জিত হয়। পশ্চিমের লোকে এই বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসে ভর করে নিয়মকে চেপে ধরেছে, আর তারা বাইরের জগতের সকল সংকট তরে যাচ্ছে। এখনো যারা বিশ্বব্যাপারে জাদকে অস্বীকার করতে ভয় পায়, এবং দায়ে ঠেকলে জাদর শরণাপন্ন হবার জন্যে যাদের মন ঝোঁকে, বাইরের বিশেব তারা সকল দিকেই মার খেয়ে মরছে, তারা আর কতৃত্ব পেল না। আজ এ কথা বলা বাহুল্য যে, বিশ্বশক্তি হচ্ছে রটবিহীন বিশ্বনিয়মেরই রাপ; আমাদের নিয়ন্ত্ৰিত বন্ধি এই নিয়ন্ত্রিত শক্তিকে উপলদ্ধি করে। বধির নিয়মের সঙ্গে এই বিশ্বের নিয়মের সামঞ্জস্য আছে; এইজন্যে, এই নিয়মের পরে অধিকার আমাদের প্রত্যেকের নিজের মধ্যেই নিহিত—এই কথা জেনে তবেই আমরা আত্মশক্তির উপর নিঃশেষে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পেরেছি। বিশ্বব্যাপারে যে মানুষ আকস্মিকতাকে মানে সে নিজেকে মানতে সাহস করে না, সে যখন-তখন যাকে-তাকে মেনে বসে; শরণাগত হবার জন্যে সে একেবারে ব্যাকুল। মানুষ যখন ভাবে, বিশ্বব্যাপারে তার নিজের বন্ধি খাটে না, তখন সে আর সন্ধান করতে চায় না, প্রশ্ন করতে চায় না—তখন সে বাইরের দিকে কতাকে খুজে বেড়ায়; এইজন্যে বাইরের দিকে সকলেরই কাছে সে ঠকছে,