পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন ૨ઉ পলিসের দারোগা থেকে ম্যালেরিয়ার মশা পর্যন্ত। বন্ধির ভীরতাই হচ্ছে শক্তিহীনতার প্রধান আভা। পশ্চিমদেশে পোলিটিকাল সবাতন্ত্র্যের যথার্থ বিকাশ হতে আরম্ভ হয়েছে কখন থেকে। অর্থাৎ কখন থেকে দেশের সকল লোক এই কথা বঝেছে যে, রাষ্ট্রনিয়ম ব্যক্তিবিশেষের বা সম্প্রদায়বিশেষের খেয়ালের জিনিস নয়, সেই নিয়মের সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের সম্মতির সম্প্রবন্ধ আছে। যখন থেকে বিজ্ঞানের আলোচনায় তাদের মনকে ভয়মন্ত করেছে, যখন থেকে তারা জেনেছে সেই নিয়মই সত্য যে নিয়ম ব্যক্তিবিশেষের কল্পনার দ্বারা বিকৃত হয় না, খেয়ালের বারা বিচলিত হয় না। আমি একদিন একটি গ্রামের উন্নতি করতে গিয়েছিলাম। গ্রামের লোকদের জিজ্ঞাসা করলাম, সেদিন তোদের পাড়ায় আগন লাগল, একখানা চালাও বাঁচাতে পারলি নে কেন। তারা বললে, কপাল! আমি বললেম, কপাল নয় রে, কুয়োর অভাব। পাড়ায় একটা কুয়ো দিস নে কেন। তারা তখনই বললে, আজ্ঞে, কতার ইচ্ছে হলেই হয়। যাদের ঘরে আগন লাগাবার বেলায় থাকে দৈব, তাদেরই জল দান করবার ভার কোনো-একটি কতার। সুতরাং যে করে হোক, এরা একটা কতা পেলে বেচে যায়। তাই এদের কপালে আর-সকল অভাবই থাকে, কিন্তু কোনো কালেই কতার অভাব হয় না । বিশবরাজ্যে দেবতা আমাদের স্বরাজ দিয়ে বসে আছেন। অর্থাৎ, বিশেবর নিয়মকে তিনি সাধারণের নিয়ম করে দিয়েছেন। এই নিয়মকে নিজের হাতে গ্রহণ করার বারা আমরা প্রত্যেকে যে কতৃত্ব পেতে পারি তার থেকে কেবলমাত্র আমাদের মোহ আমাদের বঞ্চিত করতে পারে, আর কেউ না, আর কিছুতে না। এইজন্যেই আমাদের উপনিষৎ এই দেবতা সম্বন্ধে বলেছেন, যথাতথাতোহথান ব্যদধাৎ শাশ্ববতীভাঃ সমাভ্যঃ—অর্থাৎ, অথের বিধান তিনি যা করেছেন সে বিধান যথাতথ, তাতে খামখেয়ালি এতটুকুও নেই, এবং সে বিধান শাশ্বতকালের, আজ একরকম কাল একরকম নয়। এর মানে হচ্ছে, অর্থ রাজ্যে তাঁর বিধান তিনি চিরকালের জন্য পাকা করে দিয়েছেন। এ না হলে মানুষকে চিরকাল তাঁর অচিল-ধরা হয়ে দাবাল হয়ে থাকতে হত; কেবলই এ-ভয়ে ও-ভয়ে সে-ভয়ে পেয়াদার ঘষে জাগিয়ে ফতুর হতে হত। কিন্তু তাঁর পেয়াদার ছদ্মবেশধারী মিথ্যা বিভীষিকার হাত থেকে আমাদের বাঁচিয়েছে যে দলিল, সে হচ্ছে তাঁর বিশবরাজ্যে আমাদের সবরাজের দলিল; তারই মহা আশ্বাসবাণী হচ্ছে :যথাতথ্যতোহথান ব্যদধাং শাশ্ববতীভাঃ সমাভ্যঃ—তিনি অনন্তকাল থেকে