পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


a 9 সংকলন অনন্তকালের জন্য অথের যে বিধান করেছেন তা যথাতথ। তিনি তাঁর সন্য চন্দ্র গ্রহ নক্ষত্রে এই কথা লিখে দিয়েছেন: বস্তুরাজ্যে আমাকে না হলেও তোমার চলবে, ওখান থেকে আমি আড়ালে দাঁড়ালম; এক দিকে রইল আমার বিশেবর নিয়ম, আর-এক দিকে রইল তোমার বৃদ্ধির নিয়ম; এই দয়ের যোগে তুমি বড়ো হও; জয় হোক তোমার, এ রাজ্য তোমারই হোক— এর ধন তোমার, অসত্ৰ তোমারই। এই বিধিদত্ত সবরাজ যে গ্রহণ করেছে অন্য সকলরকম স্বরাজ সে পাবে, আর পেয়ে রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু নিজের বন্ধিবিভাগে যে লোক কতাভজা, পোলিটিকাল বিভাগেও কতাভজা হওয়া ছাড়া তাদের আর গতি নেই। বিধাতা স্বয়ং যেখানে কতৃত্ব দাবি করেন না সেখানেও যারা কতা জটিয়ে বসে, যেখানে সম্মান দেন সেখানেও যারা আত্মাবমাননা করে, তাদের সবরাজে রাজার পর রাজার আমদানি হবে, কেবল ছোট্ট ঐ সব টাকুকে বাঁচানোই দায় হবে। এই পর্যন্ত এগিয়ে একটা কথায় এসে মন ঠেকে যায়। সামনে এই প্রশ্নটা দেখা দেয়, সব মানলেম, কিন্তু পশ্চিমের যে শক্তিরপে দেখে এলে তাতে কি তৃপিত পেয়েছ।’ না, পাই নি। সেখানে ভোগের চেহারা দেখেছি, আনন্দের না। অনবচ্ছিন্ন সাত মাস আমেরিকায় ঐশ্বয্যের দানবপরীতে ছিলেম। দানব মন্দ অথে বলছি নে, ইংরেজিতে বলতে হলে হয়তো বলতেম, titanic wealth । অথাৎ, যে ঐশ্বয্যের শক্তি প্রবল, আয়তন বিপল। হোটেলের জানলার কাছে রোজ ত্রিশ-পয়ত্রিশ-তলা বাড়ির ভ্রাকৃটির সামনে বসে থাকতেম আর মনে মনে বলতেম, লক্ষী হলেন এক, আর কুবের হল আর—অনেক তফাত। লক্ষয়ীর অন্তরের কথাটি হচ্ছে কল্যাণ, সেই কল্যাণের বারা ধন শ্রীলাভ করে। . কুবেরের অন্তরের কথাটি হচ্ছে সংগ্রহ, সেই সংগ্রহের বারা ধন বহলত্ব লাভ করে। বহলেত্বের কোনো চরম অর্থ নেই। দই দগণে চার, চার দগণে আট, আট দগণে ষোলো, অঙ্কগুলো ব্যাঙের মতো লাফিরে চলে—সেই লাফের পাল্লা কেবলই লবা হতে থাকে। এই নিরন্তর উল্লম্বফনের ঝোঁকের মাঝখানে যে পড়ে গেছে তার রোখ চেপে যায়, রক্ত গরম হয়ে ওঠে, বাহাদারির মত্ততায় সে ভোঁ হয়ে যায়। আটলাণ্টিকের ও পারে ইটপাথরের জঙ্গলে বসে আমার মন প্রতিদিনই পীড়িত হয়ে বলেছে, তালের খচমচের অন্ত নেই, কিন্তু সরে কোথায়। আরো চাই, আরো চাই—এ বাণীতে তো সন্টির সরে লাগে না। তাই সেদিন সেই ভ্রাকৃটিকুটিল অভ্ৰভেদী ঐশ্বষের সামনে দাঁড়িয়ে ধনমানহীন ভারতের একটি সন্তান প্রতিদিন ধিক্কারের সঙ্গে বলেছে, ততঃ কিম ।