পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন 놀이 এ কথা বার বার বলেছি, আবার বলি, আমি বৈরাগ্যের নাম করে শান্য ঝুলির সমথন করি নে। আমি এই বলি, অন্তরে গান বলে সত্যটি যদি ভরপর থাকে তবে তার সাধনায় সরে ও তাল দায়েরই চেষ্টা থাকে রসের সংযমরক্ষার—বাহিরের বৈরাগ্য অন্তরের পণেতার সাক্ষ্য দেয়। কোলাহলের উচ্ছৃঙ্খল নেশায় সংযমের কোনো বালাই নেই। অন্তরে প্রেম বলে সত্যটি যদি থাকে তবে তার সাধনায় ভোগকে হতে হয় সংযত, সেবাকে হতে হয় খটি। এই সাধনায় সতীত্ব থাকা চাই। এই সতীত্বের যে বৈরাগ্য অর্থাৎ সংযম, সেই হল প্রকৃত বৈরাগ্য। অন্নপ্রণার সঙ্গে বৈরাগীর যে মিলন, সেই হল প্রকৃত মিলন। পবে যা বলেছি তার থেকে এ কথা সবাই বুঝবেন যে, আমি বলি নে রেলওয়ে টেলিগ্রাফ কল কারখানার কোনোই প্রয়োজন নেই। আমি বলি প্রয়োজন আছে, কিন্তু তার বাণী নেই; বিশেবর কোনো সরে সে সায় দেয় না, হাদয়ের কোনো ডাকে সে সাড়া দেয় না। মানুষের যেখানে অভাব সেইখানে তৈরি হয় তার উপকরণ, মানুষের যেখানে পণতা সেইখানে প্রকাশ হয় আমতরপে। এই অভাবের দিকে উপকরণের মহলে মানুষের ঈষা বিদ্বেষ ; এইখানে তার প্রাচীর, তার পাহারা; এইখানে সে আপনাকে বাড়ায়, পরকে তাড়ায় ; সতরাং এইখানেই তার লড়াই। যেখানে তার অমত, যেখানে মানষে—বস্তুকে নয়—আত্মাকে প্রকাশ করে, সেখানে সকলকে সে ডেকে আনে, সেখানে ভাগের দ্বারা ভোজের ক্ষয় হয় না; সুতরাং সেইখানেই শান্তি । নিয়মকে কাজে খাটিয়ে আমরা ফল পাই, কিন্তু ফল পাওয়ার চেয়েও মানুষের একটা বড়ো লাভ আছে। চা-বাগানের ম্যানেজার কুলিদের পরে যে নিয়ম চালনা করে সে নিয়ম যদি পাকা হয় তা হলে চায়ের ফলনের পক্ষে কাজে লাগে। কিন্তু বন্ধ সম্বন্ধে ম্যানেজারের তো পাকা নিয়ম নেই। তার বেলায় নিয়মের কথাই ওঠে না। ঐ জায়গাটাতে চায়ের আয় নেই, ব্যয় আছে। কুলির নিয়মটা আধিভৌতিক বিশ্ববনিয়মের দলে, সেইজন্যে সেটা চা-বাগানেও খাটে। কিন্তু যদি এমন ধারণা হয় যে, ঐ বন্ধতার সত্য কোনো বিরাট সত্যের অঙ্গ নয়, তা হলে সেই ধারণায় মানবত্বকে শুকিয়ে ফেলে। কলকে তো আমরা আত্মীয় বলে বরণ করতে পারি নে ; তা হলে কলের বাইরে কিছল যদি না থাকে তবে আমাদের যে আত্মা আত্মীয়কে খোঁজে সে দাঁড়ায় কোথায়। যান্ত্রিকতাকে অন্তরে বাহিরে বড়ো করে তোলায় পশ্চিমসমাজে মানব ෆ