পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার মিলন ২৯ লঙ্গেত; আপনাকে সকলের মধ্যে যে উপলব্ধি করে সেই হয় প্রকাশিত। মনুষ্যত্বের এই প্রকাশ ও প্রচ্ছন্নতার একটা মস্ত দন্টান্ত ইতিহাসে আছে। বন্ধদেব মৈত্রীবধিতে সকল মানুষকে এক দেখেছিলেন, তাঁর সেই ঐক্যতত্ত্ব চীনকে অমত দান করেছিল। আর যে বণিক লোভের প্রেরণায় চীনে এল, এই ঐক্যতত্ত্বকে সে মানলে না, সে অকুষ্ঠিতচিত্তে চীনকে মৃত্যুদান করেছে, কামান দিয়ে ঠেসে ঠেসে তাকে আফিম গিলিয়েছে। মানুষ কিসে প্রকাশ পেয়েছে আর কিসে প্রচ্ছন্ন হয়েছে, এর চেয়ে পষ্ট করে ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায় নি। আত্মিক সাধনার একটা অঙ্গ হচ্ছে জড়বিশ্বের অত্যাচার থেকে আত্মাকে মন্ত করা। পশ্চিম-মহাদেশের লোকেরা সাধনার সেই দিকটার ভার নিয়েছে। এইটে হচ্ছে সাধনার সব-নিচেকার ভিত, কিন্তু এটা পাকা করতে না পারলে অধিকাংশ মানুষের অধিকাংশ শক্তিই পেটের দায়ে জড়ের গোলামি করতে ব্যস্ত থাকবে। পশ্চিম তাই হাতের আস্তিন গটিয়ে খন্তা কোদাল নিয়ে এমনি করে মাটির দিকে ঝ:কে পড়েছে যে, উপর-পানে মাথা তোলবার ফরেসত তার নেই বললেই হয়। এই পাকা ভিতের উপর উপর-তলা যখন উঠবে তখনই, হাওয়া-আলোর যারা ভক্ত, তাদের বাসাটি হবে বাধাহীন। তত্ত্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞানীরা বলেছেন, না জানাই বন্ধনের কারণ, জানাতেই মন্তি। বস্তুবিশেবও সেই একই কথা। এখানকার নিয়মতত্ত্বকে যে না জানে সেই বন্ধ হয়, যে জানে সেই মন্তিলাভ করে। তাই বিষয়রাজ্যে আমরা যে বাহবন্ধন কল্পনা করি সেও মায়া; এই মায়া থেকে নিম্প্রকৃতি দেয় বিজ্ঞানে। পশ্চিমমহাদেশ বাহ্যবিশেব মন্তির সাধনা করছে; সেই সাধনা ক্ষুধা তৃষ্ণা শাঁত গ্রীষ্ম রোগ দৈন্যের মল খুজে বের করে সেইখানে লাগাচ্ছে ঘা, এই হচ্ছে মৃত্যুর মার থেকে মানুষকে রক্ষা করবার চেষ্টা। আর পদবী-মহাদেশ অন্তরাত্মার যে সাধনা করেছে সেই হচ্ছে অমতের অধিকার লাভ করবার উপায়। অতএব, পব-পশ্চিমের চিত্ত যদি বিচ্ছিন্ন হয় তা হলে উভয়েই ব্যথ হবে; তাই পব-পশ্চিমের মিলনমন্ত্র উপনিষৎ দিয়ে গেছেন। বলেছেন : বিদ্যাং চাবিদ্যাং চ যমতবেদোভয়ং সহ অবিদ্যয়া মৃত্যুং তাঁত্বা বিদ্যয়ামতমশনাতে। যৎ কিন্ট জগত্যাং জগৎ—এইখানে বিজ্ঞানকে চাই: ঈশাবাস্যমিদং সবাং— এইখানে তত্ত্বজ্ঞানকে চাই। এই উভয়কে মেলাবার কথা ঋষি বলেছেন। এই মিলনের অভাবে পবদেশ দৈন্যপীড়িত, সে নিজীব; আর এই মিলনের অভাবে পশ্চিম অশান্তির বারা ক্ষখে, সে নিরানন্দ ।