পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Aবাইরে তারা এক হতে শেখে নি। মানুষ সাময়িক ও পথানিক কারণে গণ্ডীর মধ্যে সত্যকে পায় বলেই সত্যের পজা ছেড়ে গণ্ডীর পজা ধরে; দেবতার চেয়ে পাণ্ডাকে মানে; রাজাকে ভোলে, দারোগাকে কিছতে ভুলতে পারে না। পথিবীতে নেশন গড়ে উঠল সত্যের জোরে; কিন্তু ন্যাশন্যালিজম সত্য নয়, অথচ সেই জাতীয় গণ্ডীদেবতার প্রজার অনুষ্ঠানে চারি দিক থেকে নরবলির যোগান চলতে লাগল। যতদিন বিদেশী বলি জটত ততদিন কোনো কথা ছিল না, হঠাৎ ১৯১৪ খস্টাব্দে পরস্পরকে বলি দেবার জন্য স্বয়ং যজমানদের মধ্যে টানাটানি পড়ে গেল। তখন থেকে ওদের মনে সন্দেহ জাগতে আরম্ভ হল—একেই কি বলে ইষ্টদেবতা। এ যে ঘর-পর কিছুই বিচার করে না। এ যখন একদিন পাবদেশের অঙ্গপ্রতাগের কোমল অংশ বেছে তাতে দাঁত বসিয়েছিল এবং ভিক্ষ যথা ইক্ষ খায়, ধরি ধরি চিবায় সমস্ত—তখন মহাপ্রসাদের ভোজ খাব জমেছিল, সঙ্গে সঙ্গে মদমত্ততারও অবধি ছিল না। আজ মাথায় হাত দিয়ে ওদের কেউ কেউ ভাবছে, এর পজো আমাদের বংশে সইবে না। যন্ধে যখন পরোদমে চলছিল তখন সকলেই ভাবছিল, যন্ধ মিটলেই অকল্যাণ মিটবে। যখন মিটল তখন দেখা গেল, ঘরে ফিরে সেই যন্ধটাই এসেছে সন্ধিপত্রের মুখোশ পারে। কিকিন্ধ্যাকাণ্ডে যার প্রকাণ্ড লেজটা দেখে বিশ্ববরহমাণ্ড অংিকে উঠেছিল, আজ লঙ্কাকাণ্ডের গোড়ায় দেখি সেই লেজটার উপর মোড়কে মোড়কে সন্ধিপত্রের স্নেহসিক্ত কাগজ জড়ানো চলেছে; বোঝা যাচ্ছে, ঐটাতে আগন যখন ধরবে তখন কারো ঘরের চাল আর বাকি থাকবে না।—পশ্চিমের মনীষী লোকেরা ভীত হয়ে বলছেন যে, যে দ্বন্ধি থেকে দর্ঘটনার উৎপত্তি, এত মারের পরেও তার নাড়ী বেশ তাজা আছে। এই দািবধিরই নাম ন্যাশন্যালিজম, দেশের সবজনীন আত্মম্ভরিতা। এ হল রিপন, ঐক্যতত্ত্বের উলটো দিকে, অর্থাৎ আপনার দিকটাতেই এর টান। কিন্তু, জাতিতে জাতিতে আজ একত্র হয়েছে, এই কথাটা যখন অস্বীকার করবার জো নেই, এত বড়ো সত্যের উপর যখন কোনো একটামাত্র প্রবল জাতি আপন সাম্রাজ্যরথ চালিয়ে দিয়ে চাকার তলায় একে ধলো করে দিতে পারে না, তখন এর সঙ্গে সত্য ব্যবহার করতেই হবে। বর্তমান যাগের সাধনার সঙ্গেই বর্তমান যাগের শিক্ষার সংগতি হওয়া চাই। সবাজাত্যের অহমিকা থেকে মন্তিদান করার শিক্ষাই আজকের দিনের প্রধান শিক্ষা। কেননা, কালকের দিনের ইতিহাস সাবজাতিক সহযোগিতার অধ্যায় আরম্ভ করবে। যে-সকল রিপন, যে-সকল চিন্তার অভ্যাস ও আচার