পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


०२ সংকলন পদ্ধতি এর প্রতিকল তা আগামীকালের জন্যে আমাদের অযোগ্য করে • তুলবে। সবদেশের গৌরববন্ধি আমার মনে আছে, কিন্তু আমি একান্ত আগ্রহে ইচ্ছা করি যে, সেই বন্ধি যেন কখনো আমাকে এ কথা না ভোলায় যে, একদিন আমার দেশে সাধকেরা যে মন্ত্র প্রচার করেছিলেন সে হচ্ছে ভেদবধি দর করবার মন্ত্র। শনতে পাচ্ছি, সমাদের ওপারের মানুষ আজ আপনাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছে, আমাদের কোন শিক্ষা, কোন চিন্তা, কোন কমের মধ্যে মোহ প্রচ্ছন্ন হয়ে ছিল, যার জন্যে আমাদের আজ এমন নিদারণে শোক।’ তার উত্তর আমাদের দেশ থেকেই দেশে দেশান্তরে পেীছক যে, মানযের একত্বকে তোমরা সাধনা থেকে দরে রেখেছিলে, সেইটেই মোহ, এবং তার থেকেই শোক : যস্মিন সবাণি ভূতানি আত্মৈবাভূদবিজানতঃ তত্ৰ কো মোহঃ কঃ শোক একত্বমন পশ্যতঃ। আমরা শনতে পাচ্ছি সমদ্রের ওপারে মানুষ ব্যাকুল হয়ে বলছে, “শান্তি চাই । এ কথা তাদের জানাতে হবে, শান্তি সেখানেই যেখানে মঙ্গল, মঙ্গল সেখানেই যেখানে ঐক্য। এইজন্য পিতামহেরা বলেছেন শাতং শিবমবৈতম! —অবৈতই শান্ত, কেননা অবৈতই শিব। সবদেশের গৌরববধি আমার মনে আছে, সেইজন্যে এই সম্পভাবনার কল্পনাতেও আমার লন্জা হয় যে, অতীত যাগের যে আবৰ্জনাভার সরিয়ে ফেলবার জন্যে আজ রদ্রদেবতার হাকুম এসে পৌচেছে এবং পশ্চিমদেশ সেই হুকুমে জাগতে শরে করেছে, আমরা পাছে স্বদেশে সেই আবৰ্জনার পীঠ পথাপন করে আজ যুগান্তরের প্রত্যুষেও তামসী পজাবিধি বারা তার অচনা করবার আয়োজন করতে থাকি। যিনি শান্ত, যিনি শিব, যিনি সাবজাতিক মানবের পরমাশ্রয় অদ্বৈত, তাঁরই ধানমন্ত্র কি আমাদের ঘরে নেই। সেই ধ্যানমন্ত্রের সহযোগেই কি নবযুগের প্রথম প্রভাতরশিম মানষের মনে সনাতন সত্যের উদবোধন এনে দেবে না। এইজনোই আমাদের দেশের বিদ্যানিকেতনকে পব-পশ্চিমের মিলননিকেতন করে তুলতে হবে, এই আমার অন্তরের কামনা। বিষয়লাভের ক্ষেত্রে মানুষের বিরোধ মেটে নি, সহজে মিটতেওঁ চায় না। সত্যলাভের ক্ষেত্রে মিলনের বাধা নেই। যে গহস্থ কেবলমাত্র আপন পরিবারকে নিয়েই থাকে, আতিথ্য করতে ষার কৃপণতা, সে দীনাত্মা। শুধ গহন্থের কেন, প্রত্যেক দেশেরই কেবল নিজের ভোজনশালা নিয়ে চলবে না, তার অতিথিশালা চাই, যেখানে বিশ্বকে অভ্যর্থনা করে সে ধন্য হবে। শিক্ষাক্ষেত্রেই তার প্রধান অতিথিশালা। দভাগা ভারতবর্ষে বর্তমানকালে শিক্ষার যত-কিছ: সরকারি ব্যবস্থা আছে তার