পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পনেরো-আনা অংশই পরের কাছে বিদ্যাভিক্ষার ব্যবস্থা। ভিক্ষা যার বত্তি, আতিথ্য করে না বলে লন্জা করাও তার ঘুচে যায়। সেইজন্যই বিশ্বের আতিথ্য করে না বলে ভারতীয় আধুনিক শিক্ষালয়ের লজা নেই। সে বলে, “আমি ভিখারি, আমার কাছে আতিথ্যের প্রত্যাশা কারো নেই।" কে বলে নেই। আমি তো শুনেছি পশ্চিমদেশ বারংবার জিজ্ঞাসা করছে, ভারতের বাণী কই । তার পর সে যখন আধুনিক ভারতের বারে এসে কান পাতে তখন বলে, "এ তো সব আমারই বাণীর ক্ষীণ প্রতিধননি, যেন ব্যঙ্গের মতো শোনাচ্ছে। তাই তো দেখি আধুনিক ভারত যখন ম্যান্সম্যলরের পাঠশালা থেকে বাহির হয়েই আৰ্যসভ্যতার দম্ভ করতে থাকে, তখন তার মধ্যে পশ্চিম গড়ের-বাদ্যের কড়িমধ্যম লাগে, আর পশ্চিমকে যখন সে প্রবল ধিক্কারের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে তখনো তার মধ্যে সেই পশ্চিমরাগেরই তারসঙ্গতকের নিখাদ তীব্র হয়ে বাজে। আমার প্রাথনো এই যে, ভারত আজ সমস্ত পরবর্ভূভাগের হয়ে সত্যসাধনার অতিথিশালা প্রতিষ্ঠা করকে। তার ধনসম্পদ নেই জানি, কিন্তু তার সাধনসম্পদ আছে। সেই সম্পপদের জোরে সে বিশবকে নিমন্ত্রণ করবে এবং তার পরিবতে সে বিশেবর সবত্র নিমন্ত্রণের অধিকার পাবে। দেউড়িতে নয়, বিশেবর ভিতরমহলে তার আসন পড়বে। কিন্তু আমি বলি, এই মানসম্মানের কথা এও বাহিরের, একেও উপেক্ষা করা চলে। এই কথাই বলবার কথা যে, সত্যকে চাই অন্তরে উপলব্ধি করতে এবং সত্যকে চাই বাহিরে প্রকাশ করতে—কোনো সুবিধার জন্যে নয়, সম্মানের জন্যে নয়, মানুষের আত্মাকে তার প্রচ্ছন্নতা থেকে মুক্তি দেবার জন্যে। মানুষের সেই প্রকাশতত্ত্বটি আমাদের শিক্ষার মধ্যে প্রচার করতে হবে, কমের মধ্যে প্রচলিত করতে হবে, তা হলেই সকল মানুষের সম্মান করে আমরা সম্মানিত হব—নবযুগের উদ্বোধন করে আমরা জরামন্ত হব। আমাদের শিক্ষালয়ের সেই শিক্ষামন্ত্রটি এই : যস্তু সবাণি ভূতানি আত্মন্যেবানুপশ্যতি সবভুতেষু চাত্মানং ন ততো বিজগোপসতে। ఏరి షాb