পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতা ථ6 প্রত্যেক জাতির যেমন একটি জাতিধৰ্ম আছে, তেমনি জাতিধমে'র অতীত একটি শ্রেষ্ঠ ধৰ্ম আছে যাহা মানবসাধারণের। আমাদের দেশে বর্ণাশ্রমধর্ম যখন সেই উচ্চতর ধর্মকে আঘাত করিল তখন ধম তাহাকে প্রতিঘাত করিল : ধম এব হতো হলিত ধমে রক্ষতি রক্ষিতঃ । এক সময় আৰ্যসভ্যতা আত্মরক্ষার জন্য ব্রাহরণশদ্রে দল"ঙ্ঘ্য ব্যবধান রচনা করিয়াছিল। কিন্তু ক্ৰমে সেই ব্যবধান বর্ণাশ্রমধমের উচ্চতর ধর্মকে পীড়িত করিল। বর্ণাশ্রম আপনাকে রক্ষা করিবার জন্য চেষ্টা করিল কিন্তু ধমকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করিল না। সে যখন উচ্চ অঙ্গের মনুষ্যত্বচচা হইতে শদ্রেকে একেবারে বঞ্চিত করিল তখন ধম তাহার প্রতিশোধ লইল । তখন ব্রাহরণ্য আপন জ্ঞানধম লইয়া পবের মতো আর অগ্রসর হইতে পারিল না। অজ্ঞান জড় শদ্রেসম্প্রদায় সমাজকে গর্ভারে আকৃষ্ট করিয়া নীচের দিকে টানিয়া রাখিল। শদ্রেকে ব্রাহণ উপরে উঠিতে দেয় নাই। কিন্তু শদ্রে ব্রাহরণকে নীচে নামাইল। আজিও ভারতে ব্ৰাহয়ণপ্রধান বর্ণাশ্রম থাকা সত্ত্বেও শদ্রের সংস্কারে, নিকৃষ্ট অধিকারীর অজ্ঞানতায়, ব্রাহমণসমাজ পৰ্যন্ত আচ্ছন্ন আবিস্ট । ইংরেজের আগমনে যখন জ্ঞানের বন্ধনমুক্তি হইল, যখন সকল মনুষ্যই মনুষ্যত্বলাভের অধিকারী হইল, তখনি হিন্দুধমে'র মছ'পগমের লক্ষণ প্রকাশ পাইল। আজ ব্রাহণশদ্রে সকলে মিলিয়া হিন্দজাতির অন্তনিহিত আদশের বিশদ্ধ মতি দেখিবার জন্য সচেষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। শদ্রেরা আজ জাগিতেছে বলিয়াই ব্ৰাহরণও জাগিবার উপক্ৰম করিতেছে । যাহাই হউক, আমাদের বর্ণাশ্রমধমের সংকীর্ণতা নিত্যধমকে নানা পথানে খব করিয়াছিল বলিয়াই তাহা উন্নতির দিকে না গিয়া বিকৃতির পথেই গেল । য়রোপীয় সভ্যতার মলভিত্তি রাষ্ট্ৰীয় বার্থ যদি এত অধিক সফাঁতিলাভ করে যে, ধমের সীমাকে অতিক্ৰম করিতে থাকে, তবে বিনাশের ছিদ্র দেখা দিবে এবং সেই পথে শনি প্রবেশ করিবে। সবাথের প্রকৃতিই বিরোধ। য়রোপীয় সভ্যতার সীমায় সীমায় সেই বিরোধ উত্তরোত্তর কণ্টকিত হইয়া উঠিতেছে। পথিবী লইয়া ঠেলাঠেলি কাড়াকড়ি পড়িবে তাহার প্রবাসচনা দেখা যাইতেছে। ইহাও দেখিতেছি, য়রোপের এই রাষ্ট্ৰীয় বার্থপরতা ধমকে প্রকাশ্য ভাবে অবজ্ঞা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। জোর যার মালকে তার এ নীতি স্বীকার করিতে আর লক্ষজা বোধ করিতেছে না।