পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ළුෂ් সংকলন যে ধমনীতি ব্যক্তিবিশেষের নিকট বরণীয় তাহা রাষ্ট্ৰীয় ব্যাপারে আবশ্যকের অনুরোধে বজনীয়, এ কথা একপ্রকার সবজনগ্রাহ্য হইয়া উঠিতেছে। রাষ্ট্ৰতন্ত্রে মিথ্যাচরণ সত্যভঙ্গ প্রবঞ্চনা এখন আর লন্জাজনক বলিয়া গণ্য হয় না। যে-সকল জাতি মনষ্যে মনষ্যে ব্যবহারে সত্যের মর্যাদা রাখে, ন্যায়াচরণকে শ্রেয়োজ্ঞান করে, রাষ্ট্ৰতন্ত্রে তাহাদেরও ধমবোধ অসাড় হইয়া থাকে। সেইজন্য ফরাসি ইংরেজ জামান রািশ ইহারা পরপরকে কপট ভণ্ড প্রবণ্যক বলিয়া উচ্চস্বরে গালি দিতেছে। ইহা হইতে এই প্রমাণ হয় যে, রাষ্ট্ৰীয় সবাথকে য়রোপীয় সভ্যতা এতই আত্যন্তিক প্রাধান্য দিতেছে যে, সে ক্রমশই পধিত হইয়া ধবধমের উপর হস্তক্ষেপ করিতে উদ্যত হইয়াছে। এখন গত শতাব্দীর সাম্য-সৌভ্রাত্রের মন্ত্র য়রোপের মুখে পরিহাসবাক্য হইয়া উঠিয়াছে। এখন খাস্টান মিশনারিদের মুখেও 'ভাই' কথার মধ্যে ভ্রাতৃভাবের সরে লাগে না। হিন্দসভ্যতা রাষ্ট্ৰীয় ঐক্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত নহে। সেইজন্য আমরা স্বাধীন হই বা পরাধীন থাকি, হিন্দসভ্যতাকে সমাজের ভিতর হইতে পনরায় সঞ্জীবিত করিয়া তুলিতে পারি, এ আশা ত্যাগ করিবার নহে। নেশন’ শব্দ আমাদের ভাষায় নাই, আমাদের দেশে ছিল না। সম্প্রতি য়রোপীয় শিক্ষাগণে ন্যাশনাল মহত্ত্বকে আমরা অত্যধিক আদর দিতে শিখিয়াছি। অথচ তাহার আদশ আমাদের অন্তঃকরণের মধ্যে নাই। আমাদের গঠনের প্রাধান্য স্বীকার করে না। য়ুরোপে স্বাধীনতাকে যে পথান দেয়, আমরা মুক্তিকে সেই পথান দিই। আত্মার স্বাধীনতা ছাড়া অন্য স্বাধীনতার মাহাত্ম্য আমরা মানি না। আমাদের সব প্রধান কতব্যের আদশ এই একটি মন্ত্রেই রহিয়াছে : ব্রহমনিষ্ঠো গহস্থঃ স্যাৎ তত্ত্বজ্ঞানপরায়ণঃ. যদযং কম প্রকুবীত তদ ব্ৰহাণি সমপয়েং ॥ এই আদশ যথার্থভাবে রক্ষা করা ন্যাশনাল কতব্য অপেক্ষা দরহ এবং মহত্তর। এক্ষণে এই আদশ আমাদের সমাজের মধ্যে সজীব নাই বলিয়াই আমরা য়রোপকে ঈষা করিতেছি। ইহাকে যদি ঘরে ঘরে সঞ্জীবিত করিতে পারি, তবে মউজর বন্দকে ও দমদম বলেটের সাহায্যে বড়ো হইতে হইবে না; তবে আমরা যথাৰ্থ বাধীন হইব স্বতন্ম হইব আমাদের বিজেতাদের অপেক্ষা নয়ন হইব না। কিন্তু তাঁহাদের নিকট হইতে দরখাতের বারা যাহা পাইব তাহার বারা আমরা কিছুতেই বড়ো হইব না।