পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচ্য ও পাশচাত্য সভ্যতা Öq পনেরো-ষোলো শতাব্দী খাব দীর্ঘকাল নহে। নেশনই যে সভ্যতার সবশ্রেষ্ঠ অভিব্যক্তি, সে কথার চরম পরীক্ষা হয় নাই। কিন্তু ইহা দেখিতেছি, তাহার চারিত্র-আদশ উচ্চতম নহে। তাহা অন্যায় অবিচার ও মিথ্যার বারা আকীর্ণ এবং তাহার মজার মধ্যে একটি ভীষণ নিষ্ঠুরতা আছে। এই ন্যাশনাল আদশকেই আমাদের আদশ রাপে বরণ করাতে আমাদের মধ্যেও কি মিথ্যার প্রভাব পথান পায় নাই। আমাদের রাষ্ট্ৰীয় সভাগুলির মধ্যে কি নানাপ্রকার মিথ্যা, চাতুরী ও আত্মগোপনের প্রাদ্ভাব নাই। আমরা কি যথাথ কথা পন্ট করিয়া বলিতে শিখিতেছি । আমরা কি পরপর বলাবলি করি না যে, নিজের সবাথের জন্য যাহা দষণীয়, রাষ্ট্ৰীয় সবাথের জন্য তাহা গহিত নহে। কিন্তু আমাদের শাস্ত্রেই কি বলে না : ধম এব হতো হলিত ধমো রক্ষতি রক্ষিতঃ । তস্মাং ধমো ন হন্তব্যো মা নো ধমো হতো বধীং ॥ বস্তুত প্রত্যেক সভ্যতারই একটি মল আশ্রয় আছে। সেই আশ্রয়টি ধমের উপর প্রতিষ্ঠিত কি না তাহাই বিচায। যদি তাহা উদার ব্যাপক না হয়, যদি তাহা ধমকে পীড়িত করিয়া বধিত হয়, তবে তাহার আপাত উন্নতি দেখিয়া আমরা তাহাকেই একমাত্র ঈপ্সিত বলিয়া যেন বরণ না করি। রাষ্ট্রনীতি। সামাজিক মহত্ত্বেও মানুষ মাহাত্ম্য লাভ করিতে পারে, রাষ্ট্রনীতিক মহত্ত্বেও পারে। কিন্তু আমরা যদি মনে করি, য়ুরোপীয় ছাদে নেশন গড়িয়া তোলাই সভ্যতার একমাত্র প্রকৃতি এবং মনুষ্যত্বের একমাত্র লক্ষ্য, তবে আমরা ভুল বুঝিব। ऐछाष्ठे ००o४