পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


80 সংকলন মন্দের উপরে শদিত হইয়া উঠিবে। এই সঙ্গহীন নিভৃতবাসী ভারতবর্ষকে আমরা জানিব; যাহা সন্তব্ধ তাহাকে উপেক্ষা করিব না, যাহা মৌন তাহাকে অবিশ্বাস করিব না, যাহা বিদেশের বিপল বিলাসসমগ্রীকে ক্ষেপের দ্বারা অবজ্ঞা করে, তাহাকে দরিদ্র বলিয়া উপেক্ষা করিব না; করজোড়ে তাহার সম্মখে আসিয়া উপবেশন করিব, এবং নিঃশব্দে তাহার পদধলি মাথায় তুলিয়া তথভাবে গহে আসিয়া চিন্তা করিব। আমোদ বল, শিক্ষা বল, হিতকম বল, সকলকেই একান্ত জটিল ও দুঃসাধ্য করিয়া তুলিলে কমের আয়োজন ও উত্তেজনা উত্তরোত্তর এতই বহৎ হইয়া উঠে যে, মানুষ আচ্ছন্ন হইয়া যায়। প্রতিযোগিতার নিষ্ঠর তাড়নায় কর্মজীবীরা যন্ত্রের অধম হয়। বাহির হইতে সভ্যতার বহৎ আয়োজন দেখিয়া স্তম্ভিত হই—তাহার তলদেশে যে নিদারণে নরমেধযজ্ঞ অহোরার অনুষ্ঠিত হইতেছে, তাহা গোপনে থাকে। কিন্তু বিধাতার কাছে তাহা গোপন নহে-মাঝে-মাঝে সামাজিক ভূমিকম্পে তাহার পরিণামের সংবাদ পাওয়া যায়। য়রোপে বড়ো দল ছোটো দলকে পিষিয়া ফেলে, বড়ো টাকা ছোটো টাকাকে উপবাসে ক্ষীণ করিয়া আনিয়া শেষকালে বটিকার মতো চোখ বজিয়া গ্রাস করিয়া ফেলে। কাজের উদ্যমকে অপরিমিত বাড়াইয়া তুলিয়া, কাজগলোকে প্রকাণ্ড করিয়া, কাজে কাজে লড়াই বাধাইয়া দিয়া যে অশান্তি ও অসন্তোষের বিষ উন্মথিত হইয়া উঠে, আপাতত সে আলোচনা থাক। আমি কেবল ভাবিয়া দেখিতেছি, এই-সকল কৃষ্ণধমশবসিত দানবীয় কারখানাগলার ভিতরে, তাহাতে তাহদের নিজনত্বের সহজ অধিকার, একাকিত্বের আবরটকে থাকে না। না থাকে সস্থানের অবকাশ, না থাকে কালের অবকাশ, না থাকে ধ্যানের অবকাশ। এইরপে নিজের কাছে অত্যন্ত অনভ্যস্ত হইয়া পড়াতে, কাজের একটা ফাঁক হইলেই মদ খাইয়া, প্রমোদে মাতিয়া, বলপবেক নিজের হাত হইতে নিৰ্ম্মকৃতি পাইবার চেষ্টা ঘটে। নীরব থাকিবার, তখ থাকিবার, আনন্দে থাকিবার সাধ্য আর কাহারো থাকে না। যাহারা শ্রমজীবী তাহদের এই দশা। যাহারা ভোগী তাহারা ভোগের নব নব উত্তেজনায় ক্লান্ত। নিমন্ত্রণ খেলা নত্য ঘোড়দৌড় শিকার ও ভ্রমণের ঝড়ের মখে শাকপত্রের মতো দিনরাত্রি তাহারা নিজেকে আবর্তিত করিয়া বেড়ায়। যদি এক মহাতের জন্য তাহার প্রমোদচক থামিয়া যায় তবে সেই ক্ষণকালের জন্য নিজের সহিত সাক্ষাৎকার তাহার পক্ষে অত্যন্ত দুঃসহ বোধ