পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 ૨ সংকলন বস্তুত সন্তোষের বিকৃতি আছে বলিয়াই অত্যাকাঙ্ক্ষার যে বিকৃতি নাই, এ কথা কে মানিবে। সন্তোষ জড়ত্ব প্রাপ্ত হইয়া কাজে শৈথিল্য আনে ইহা যদি সত্য হয়, তবে অত্যাকাঙ্ক্ষার দম বাড়িয়া গেলে যে ভুরি-ভূরি অনাবশ্যক ও নিদারণে অকাজের সন্টি হইতে থাকে, এ কথা কেন ভুলিব। প্রথমটাতে যদি রোগে মৃত্যু ঘটিয়া থাকে, তবে দ্বিতীয়টাতে অপঘাতে মৃত্যু হয়। অতএব সে আলোচনা ছাড়িয়া দিয়া ইহা স্বীকার করিতেই হইবে, সন্তোষ সংযম শান্তি ক্ষমা এ-সমস্তই উচ্চতর সভ্যতার অঙ্গ। আমাদের প্রকৃতির নিভৃততম কক্ষে যে অমর ভারতবষী বিরাজ করিতেছেন, আজি নববর্ষের দিনে তাঁহাকে প্রণাম করিয়া আসিলাম। দেখিলাম, তিনি ফললোলুপ কমের অনন্ত তাড়না হইতে মুক্ত হইয়া শান্তির ধ্যানাসনে বিরাজমান, অবিরাম জনতার জড় পেষণ হইতে মুক্ত হইয়া আপন একাকিত্বের মধ্যে আসীন, এবং প্রতিযোগিতার নিবিড় সংঘর্ষ ও ঈষা-কালিমা হইতে মন্ত হইয়া তিনি আপন অবিচলিত মর্যাদার মধ্যে পরিবেষ্টিত। এই যে কমের বাসনা, জনসংঘের আঘাত ও জিগীষার উত্তেজনা হইতে মুক্তি, ইহাই সমস্ত ভারতবর্ষকে ব্রহের পথে ভয়হীন শোকহীন মৃত্যুহীন পরম মুক্তির পথে পথাপিত করিয়াছে। য়ুরোপ যাহাকে ‘ফ্রীডম' বলে, সে মন্তি ইহার কাছে নিতান্তই ক্ষীণ । সে মুক্তি চঞ্চল দ্বল ভীর; তাহা পধিত, তাহা নিষ্ঠর; তাহা পরের প্রতি অন্ধ; তাহা ধমকেও নিজের সমতুল্য মনে করে না, এবং সত্যকেও নিজের দাসত্বে বিকৃত করিতে চাহে। তাহা কেবলই অন্যকে আঘাত করে, এইজন্য অন্যের আঘাতের ভয়ে দিনরাত্রি বমে-চমে" অস্যে-শস্যে কণ্টকিত হইয়া বসিয়া থাকে; তাহা আত্মরক্ষার জন্য স্বপক্ষেরঅধিকাংশ লোককেই দাসত্বনিগড়ে বদ্ধ করিয়া রাখে; তাহার অসংখ্য সৈন্য মনুষ্যত্বভ্রস্ট ভীষণ যন্ত্রমাত্র। এই দানবীয় ফ্রীডম কোনোকালে ভারতবর্ষের তপস্যার চরম বিষয় ছিল না। এখনো আধুনিক কালের ধিককার সত্ত্বেও এই ফ্রীডম আমাদের সবসাধারণের চেস্টার চরমতম লক্ষ্য হইবে না। এই ফ্রীডমের চেয়ে উন্নততর বিশালতর যে মহত্ত্ব, যে মন্তি ভারতবর্ষের তপস্যার ধন, তাহা যদি পনরায় সমাজের মধ্যে আমরা আবাহন করিয়া আনি, অন্তরের মধ্যে আমরা লাভ করি, তবে ভারতবর্ষের নগ্নচরণের ধালিপাতে পথিবীর বড়ো বড়ো রাজমুকুট পবিত্র হইবে। নবীনতা গ্রহণ করিব; সায়াহ্নে যখন বিশ্রামের ঘণ্টা বাজিবে তখনো তাহা ঝরিয়া পড়িবে না; তখন সেই অঞ্চলানগৌরব মাল্যখানি আশীবাদের সহিত