পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভারতবর্ষের ইতিহাস 86. ও সামাজিক উন্নতির ভিত্তি। য়ুরোপীয় সভ্যতা ষে ঐক্যকে আশ্রয় করিয়াছে তাহা বিরোধমুলক; ভারতবষীয় সভ্যতা যে ঐক্যকে আশ্রয় করিয়াছে তাহা মিলনমুলক। য়রোপীয় পোলিটিক্যাল ঐক্যের ভিতরে যে বিরোধের ফাঁস রহিয়াছে তাহা তাহাকে পরের বিরুদ্ধে টানিয়া রাখতে পারে, কিন্তু তাহাকে নিজের মধ্যে সামঞ্জস্য দিতে পারে না। এইজন্য তাহা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে, রাজার প্রজায়, ধনীতে দরিদ্রে বিচ্ছেদ ও বিরোধকে সবাদা জাগ্রত করিয়াই রাখিয়াছে। ভারতবর্ষ বিসদশকেও সম্প্রবন্ধবন্ধনে বধিবার চেষ্টা করিয়াছে। যেখানে যথার্থ পাথক্য আছে সেখানে সেই পাথক্যকে যথাযোগ্য পথানে বিন্যস্ত করিয়া সংযত করিয়া তবে তাহাকে ঐক্যদান করা সম্ভব। বিধাতা ভারতবষের মধ্যে বিচিত্র জাতিকে টানিয়া আনিয়াছেন। ঐক্যমলেক যে সভ্যতা মানবজাতির চরম সভ্যতা, ভারতবর্ষ চিরদিন ধরিয়া বিচিত্র উপকরণে তাহার ভিত্তি নিমাণ করিয়া আসিয়াছে। পর বলিয়া সে কাহাকেও দর করে নাই, অনায বলিয়া সে কাহাকেও বহিস্কৃত করে নাই, অসংগত বলিয়া সে কিছুকেই উপহাস করে নাই। ভারতবষী সমস্তই গ্রহণ করিয়াছে, সমস্তই স্বীকার করিয়াছে। এত গ্রহণ করিয়াও আত্মরক্ষা করিতে হইলে এই পঞ্জীভূত সামগ্রীর মধ্যে নিজের ব্যবস্থা, নিজের শখেলা পথাপন করিতে হয়—ইহাদিগকে একটি মনুল ভাবের দ্বারা বন্ধ করিতে হয়। উপকরণ যেখানকার হউক, সেই শৃংখলা ভারতবর্ষের, সেই মল ভাবটি ভারতবর্ষের। য়রোপ পরকে দর করিয়া, উৎসাদন করিয়া সমাজকে নিরাপদ রাখিতে চায়; আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিয়জীল্যাণ্ড, কেপ-কলনিতে তাহার পরিচয় আমরা আজ পর্যন্ত পাইতেছি। হয় পরকে কাটিয়া-মারিয়া-খেদাইয়া নিজের সমাজ ও সভ্যতাকে রক্ষা করা, নয় পরকে নিজের বিধানে সংযত করিয়া স-বিহিত শঙ্খেলার মধ্যে পথান করিয়া দেওয়া, এই দুই রকম হইতে পারে। য়ুরোপ প্রথম প্রণালীটি অবলম্ববন করিয়া সমস্ত বিশ্বের সঙ্গে বিরোধ উন্মুক্ত করিয়া রাখিয়াছে, ভারতবর্ষ দ্বিতীয় প্রণালী অবলম্ববন করিয়া সকলকেই ক্লমে ক্ৰমে ধীরে ধীরে আপনার করিয়া লইবার চেষ্টা করিয়াছে। যদি ধমের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে, যদি ধমকেই মানবসভ্যতার চরম আদশ বলিয়া সিথর করা যায়, তবে ভারতবর্ষের প্রণালীকেই শ্রেষ্ঠতা দিতে হইবে। পরকে আপন করিতে প্রতিভার প্রয়োজন। অন্যের মধ্যে প্রবেশ করিবার শক্তি এবং অন্যকে সম্পণে আপনার করিয়া লইবার ইন্দ্রজাল, ইহাই প্রতিভার নিজস্ব। ভারতবষের মধ্যে সেই প্রতিভা আমরা দেখিতে পাই। ভারতবৰ্ষ" অসংকোচে অন্যের মধ্যে প্রবেশ করিয়াছে এবং অনায়াসে অন্যের সামগ্রী নিজের