পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& O সংকলন করিতেই হইবে—তাহাতে বাঙালির সমস্ত শক্তিকে উদবোধিত করিয়া তুলিতেছে এবং বাঙালির কম ক্ষেত্রকে ব্যাপক করিয়া তাহার চিত্তকে বিস্তীর্ণ করিতেছে। কিন্তু এই সময়েই বাঙালিকে নিয়ত স্মরণ করাইয়া দেওয়া দরকার যে, ঘর ও বাহিরের যে সবাভাবিক সম্ববন্ধ, তাহা যেন একেবারে উলটাপালটা হইয়া না যায়। বাহিরে অজ’ন করিতে হইবে ঘরে সঞ্চয় করিবার জন্যই। বাহিরে শক্তি খাটাইতে হইলেও হাদয়কে আপনার ঘরে রাখিতে হইবে। শিক্ষা করিব বাহিরে, প্রয়োগ করিব ঘরে। কিন্তু আমরা আজকাল : ঘর কৈন বাহির, বাহির কৈন ঘর, পর কৈন আপন, আপন কৈন পর। পোলিটিক্যাল সাধনার চরম উদ্দেশ্য একমাত্র দেশের হৃদয়কে এক করা। কিন্তু দেশের ভাষা ছাড়িয়া, দেশের প্রথা ছাড়িয়া, কেবলমাত্র বিদেশীর হদয় আকর্ষণের জন্য বহুবিধ আয়োজনকেই মহোপকারী পোলিটিক্যাল শিক্ষা বলিয়া গণ্য করা আমাদেরই হতভাগ্য দেশে প্রচলিত হইয়াছে। দেশের হদয়লাভকেই যদি চরম লাভ বলিয়া স্বীকার করি, তবে দেশের যথার্থ কাছে যাইবার কোন কোন পথ চিরদিন খোলা আছে, সেইগুলিকে দটির সম্মখে আনিতে হইবে। মনে করো প্রোভিনশ্যাল কনফারেন্সকে যদি আমরা যথার্থই দেশের মৰ্ম্মণার কাযে নিযুক্ত করিতাম, তবে আমরা কী করিতাম। তাহা হইলে আমরা বিলাতি ধাঁচের একটা সভা না বানাইয়া দেশী ধরনের একটা বহৎ মেলা করিতাম। সেখানে যাত্রা-গান-আমোদ-আহাদে দেশের লোক দর-দরাতর হইতে একত্র হইত। সেখানে দেশী পণ্য ও কৃষিদ্রব্যের প্রদর্শনী হইত। সেখানে ভালো কথক, কাঁত,ন-গায়ক ও যাত্রার দলকে পরস্কার দেওয়া হইত। সেখানে ম্যাজিক-লণ্ঠন প্রভৃতির সাহায্যে সাধারণ লোকদিগকে বাস্থ্যতত্ত্বের উপদেশ সম্পস্ট করিয়া বঝাইয়া দেওয়া হইত এবং আমাদের যাহা-কিছয় বলিবার কথা আছে, যাহা-কিছু সখদঃখের পরামশ আছে, তাহা ভদ্রাভদ্রে একত্রে মিলিয়া সহজ বাংলাভাষায় আলোচনা করা যাইত। আমাদের দেশ প্রধানত পল্লীবাসী। এই পল্লী মাঝে মাঝে যখন আপনার নাড়ীর মধ্যে বাহিরের বহৎ জগতের রক্তচলাচল অনুভব করিবার জন্য উৎসকে হইয়া উঠে তখন মেলাই তাহার প্রধান উপায়। এই মেলাই আমাদের দেশে বাহিরকে ঘরের মধ্যে আহবান করে। এই উৎসবে পল্লী আপনার সমস্ত সংকীর্ণতা বিস্মত হয়—তাহার হদয় খলিয়া দান করিবার ও গ্রহণ করিবার