পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সবদেশী সমাজ G S এই প্রধান উপলক্ষ। যেমন আকাশের জলে জলাশয় পণ করিবার সময় বর্ষাগম, তেমনি বিশেবর ভাবে পল্লীর হৃদয়কে ভরিয়া দিবার উপযন্ত অবসর মেলা । এই মেলা আমাদের দেশে অত্যন্ত স্বাভাবিক। একটা সভা-উপলক্ষে যদি দেশের লোককে ডাক দাও তবে তাহারা সংশয় লইয়া আসিবে, তাহাদের মন খলিতে অনেক দেরি হইবে; কিন্তু মেলা-উপলক্ষে যাহারা একত্র হয় তাহারা সহজেই হদয় খলিয়াই আসে—সতরাং এইখানেই দেশের মন পাইবার প্রকৃত অবকাশ ঘটে। পল্লীগুলি যেদিন হাল-লাঙল বন্ধ করিয়া ছয়টি লইয়াছে সেইদিনই তাহাদের কাছে আসিয়া বসিবার দিন। বাংলাদেশে এমন জেলা নেই, যেখানে নানা পথানে বৎসরের নানা সময়ে মেলা না হইয়া থাকে। প্রত্যেক জেলার ভদ্র শিক্ষিতসম্প্রদায় তাঁহাদের জেলার মেলাগুলিকে যদি নবভাবে জাগ্রত, নবপ্রাণে সজীব করিয়া তুলিতে পারেন, ইহার মধ্যে দেশের শিক্ষিতগণ যদি তাঁহাদের হৃদয় সঞ্চার করিয়া দেন, এই-সকল মেলায় যদি তাঁহারা হিন্দমসেলমানের মধ্যে সভাব পথাপন করেন—কোনোপ্রকার নিম্ফল পলিটিকসের সংস্রব না রাখিয়া বিদ্যালয় পথঘাট জলাশয় গোচর-জমি প্রভৃতি সম্বন্ধে জেলার যে-সমস্ত অভাব আছে তাহার প্রতিকারের পরামশ করেন, তবে অতি অস্পকালের মধ্যে সবদেশকে যথার্থই সচেষ্ট করিয়া তুলিতে পারিবেন। আমার বিশ্বাস, যদি ঘুরিয়া ঘরিয়া বাংলাদেশের নানা পথানে মেলা করিবার জন্য একদল লোক প্রস্তুত হন—তাঁহারা নতেন নতেন যাত্রা কাঁতন কথকতা রচনা করিয়া, সঙ্গে বায়স্কোপ ম্যাজিক-লগঠন ব্যায়াম ও ভোজবাজির আয়োজন লইয়া ফিরিতে থাকেন, তবে ব্যয়নিবাহের জন্য তাঁহাদিগকে কিছুমাত্র ভাবিতে হয় না। তাঁহারা যদি মোটের উপরে প্রত্যেক মেলার জন্য জমিদারকে একটা বিশেষ খাজনা ধরিয়া দেন এবং দোকানদারের নিকট হইতে যথানিয়মে বিক্লয়ের লভ্যাংশ আদায় করিবার অধিকার প্রাপ্ত হন, তবে উপযন্ত সব্যেবস্থা স্বারা সমস্ত ব্যাপারটাকে লাভকর করিয়া তুলিতে পারেন। এই লাভের টাকা হইতে পারিশ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদে যাহা উদবত্ত হইলে তাহা যদি দেশের কাযেই লাগাইতে পারেন, তবে সেই মেলার দলের সহিত সমস্ত দেশের হৃদয়ের সম্প্রবন্ধ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হইয়া উঠিবে-ই-হারা সমস্ত দেশকে তন্ন তন্ন করিয়া জানিবেন এবং ই-হাদের বারা যে কত কাজ হইতে পরিবে তাহা বলিয়া শেষ করা যায় না। আমাদের দেশে চিরকাল আনন্দ-উৎসবের সত্রে লোককে সাহিত্যরস ও