পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বদেশী সমাজ ○○ ভাগ্য শগালের সান্দ্রনাকে আশ্রয় করি নাই। আমি এই কথাই বলি, পরের প্রসাদভিক্ষাই যথার্থ 'পেসিমিস্ট’ আশাহীন দীনের লক্ষণ। গলায় কাছা না লইলে আমাদের গতি নাই, এ কথা আমি কোনোমতেই বলিব না, আমি স্বদেশকে বিশ্বাস করি, আমি আত্মশক্তিকে সম্মান করি। আমি নিশ্চয় জানি যে, যে উপায়েই হউক, আমরা নিজের মধ্যে ঐক্য উপলব্ধি করিয়া আজ যে সার্থকতালাভের জন্য উৎসকে হইয়াছি, তাহার ভিত্তি যদি পরের পরিবর্তনশীল প্রসন্নতার উপরেই প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তাহা পুনঃপমই ব্যথ হইতে থাকে। অতএব ভারতবষের যথার্থ পথটি যে কী, আমাদিগকে চারি দিক হইতেই তাহার সন্ধান করিতে হইবে। মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মীয়স বন্ধ-পথাপনই চিরকাল ভারতবর্ষের সব প্রধান চেষ্টা ছিল। আমরা যে-কোনো মানুষের সংস্রবে আসি, তাহার সঙ্গে একটি সম্বন্ধ নির্ণয় করিয়া বসি । এইজন্য কোনো অবস্থায় মানুষকে আমরা আমাদের কায সাধনার কল বা কলের অঙ্গ বলিয়া মনে করিতে পারি না। ইহার ভালো মন্দ দই দিকই থাকিতে পারে, কিন্তু ইহা আমাদের দেশীয়, এমনকি, তদপেক্ষাও বড়ো, ইহা প্রাচ্য। প্রয়োজন-সম্বন্ধকে আমরা হাদয়ের সম্বন্ধ বারা শোধন করিয়া লইয়া তবে ব্যবহার করিতে পারি। ভারতবর্ষ কাজ করিতে বসিয়াও মানবসম্বন্ধের মাধযটুকু ভুলিতে পারে না। এই সম্বন্ধের সমস্ত দায় সে স্বীকার করিয়া বসে। আমরা এই দায় সহজে স্বীকার করাতেই ভারতবর্ষে ঘরে পরে, উচ্চে নীচে, গহন্থে ও আগন্তুকে একটি ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধের ব্যবস্থা পথাপিত হইয়াছে। এইজন্যই এ দেশে টোল পাঠশালা জলাশয় অতিথিশালা দেবালয় অন্ধ-খঞ্জআতুরদের প্রতিপালন প্রভৃতি সম্বন্ধে কোনোদিন কাহাকেও ভাবিতে হয় नाशे । আজ যদি এই সামাজিক সম্প্রবন্ধ বিশিলষ্ট হইয়া থাকে, যদি অন্নদান জলদান আশ্রয়দান বাস্থ্যদান বিদ্যাদান প্রভৃতি সামাজিক কতব্য ছিন্নসমাজ হইতে পখলিত হইয়া বাহিরে পড়িয়া থাকে, তবে আমরা একেবারেই অন্ধকার দেখিব না। গহের এবং পল্লীর ক্ষুদ্র সম্বন্ধ অতিক্ৰম করিয়া প্রত্যেককে বিশ্বের সহিত যোগযন্তে করিয়া অনুভব করিবার জন্য হিন্দধম পন্থা নিদেশ করিয়াছে। হিন্দধম সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রতিদিন পঞ্চযজ্ঞের বারা দেবতা, ঋষি, পিতৃপরিষে, সমস্ত মনুষ্য ও পশুপক্ষীর সহিত আপনার মঙ্গলসবন্ধ স্মরণ করিতে প্রবত্ত করিয়াছে। ইহা যথার্থ’রপে পালিত হইলে