পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সবদেশী সমাজ 6 (; পবেই বলিয়াছি, সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি প্রত্যহ অতি অল্পপরিমাণেও কিছ স্বদেশের জন্য উৎসগ করিবে। তা ছাড়া, প্রত্যেক গহে বিবাহাদি শভকমে গ্রামভাটি প্রভৃতির ন্যায় এই স্বদেশী সমাজের একটি প্রাপ্য আদায় দরহে বলিয়া মনে করি না। ইহা যথাসথানে সংগহীত হইলে অর্থাভাব ঘটিবে না। আমাদের দেশে স্বেচ্ছাদত্ত দানে বড়ো বড়ো মঠ মন্দির চলিতেছে, এ দেশে কি সমাজ ইচ্ছাপবেক আপনার আশ্রয়স্থান আপনি রচনা করিবে না। বিশেষত যখন অন্নে জলে সবাস্থ্যে বিদ্যায় দেশ সৌভাগ্যলাভ করিবে তখন কৃতজ্ঞতা কখনোই নিশ্চেষ্ট থাকিবে না। আত্মশক্তি একটি বিশেষ স্থানে সবদা সঞ্চয় করা, সেই বিশেষ প্ৰথানে উপলব্ধি করা, সেই বিশেষ পথান হইতে প্রয়োগ করিবার একটি ব্যবসথা থাকা, আমাদের পক্ষে কিরুপ প্রয়োজনীয় হইয়াছে, একটা আলোচনা করিলেই তাহা পষ্ট বুঝা যাইবে। আমাদের দেশে মধ্যে মধ্যে সামান্য উপলক্ষে হিন্দু-মুসলমানে বিরোধ বাধিয়া উঠে; সেই বিরোধ মিটাইয়া দিয়া উভয় পক্ষের মধ্যে প্রীতি ও শান্তি পথাপন, উভয় পক্ষের সব সব অধিকার নিয়মিত করিয়া দিবার বিশেষ কতৃত্ব সমাজের কোনো সৰ্থানে যদি না থাকে, তবে সমাজ বারে বারে ক্ষতবিক্ষত হইয়া উত্তরোত্তর দলবল হইয়া পড়িবেই। নিজের শক্তিকে অবিশ্ববাস করিবেন না--আপনারা নিশ্চয়ই জানিবেন, সময় উপস্থিত হইয়াছে। নিশ্চয় জানিবেন, ভারতবর্ষের মধ্যে একটি বধিয়া তুলিবার ধম চিরদিন বিরাজ করিয়াছে। নানা প্রতিকুল ব্যাপারের মধ্যে পড়িয়াও ভারতবর্ষ বরাবর একটা ব্যবস্থা করিয়া তুলিয়াছে, তাই আজও রক্ষা পাইয়াছে। এই ভারতবর্ষের উপরে আমি বিশ্বাস পথাপন করি। এই ভারতবর্ষ এখনই এই মহেতেই ধীরে ধীরে নতন কালের সহিত আপনার পরাতনের আশ্চর্য একটি সামঞ্জস্য গড়িয়া তুলিতেছে। আমরা প্রত্যেকে যেন সজ্ঞানভাবে ইহাতে যোগ দিতে পারি—জড়ত্বের বশে বা বিদ্রোহের তাড়নায় প্রতিক্ষণে ইহার প্রতিকলতা না করি। বাহিরের সহিত হিন্দুসমাজের সংঘাত এই নতন নহে। ভারতবর্ষে প্রবেশ করিয়া আর্যগণের সহিত এখানকার আদিম অধিবাসীদের তুমলে বিরোধ বাধিয়াছিল। এই বিরোধে আর্যগণ জয়ী হইলেন, কিন্তু অনায্যেরা আদিম অস্ট্রেলিয়ান বা আমেরিকগণের মতো উৎসাদিত হইল না ; তাহারা আয"উপনিবেশ হইতে বহিস্কৃত হইল না; তাহারা আপনাদের আচারবিচারের সমস্ত পার্থক্য সত্ত্বেও একটি সমাজতন্ত্রের মধ্যে স্থান পাইল। তাহাদিগকে