পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○○ সংকলন গ্রহণ করিয়া আৰ্যসমাজ বিচিত্র হইল। এই সমাজ আর-একবার সদেীঘকাল বিলিষ্ট হইয়া গিয়াছিল। বৌদ্ধপ্রভাবের সময় বৌদ্ধধমের আকর্ষণে ভারতবষীয়ের সহিত বহতর পরদেশীয়ের ঘনিষ্ঠ সংস্রব ঘটিয়াছিল। বিরোধের সংস্রবের চেয়ে এই মিলনের সংস্রব আরো গরতর। বিরোধে আত্মরক্ষার চেষ্টা বরাবর জাগ্রত থাকে, মিলনের অসতক অবস্থায় অতি সহজেই সমস্ত একাকার হইয়া যায়। বৌদ্ধ ভারতবর্ষে তাহাই ঘটিয়াছিল; সেই এসিয়াব্যাপী ধমৰ্পলাবনের সময় নানা জাতির আচারব্যবহার ক্লিয়াকম ভাসিয়া আসিয়াছিল, কেহ ঠেকায় নাই । কিন্তু এই অতিবৃহৎ উচ্ছৃঙ্খলতার মধ্যেও ব্যবসথাস্থাপনের প্রতিভা ভারতবর্ষকে ত্যাগ করিল না। যাহা-কিছয় ঘরের এবং যাহা-কিছল অভ্যাগত, সমস্তকে একত্র করিয়া লইয়া পনবার ভারতবর্ষ আপনার সমাজ সবিহিত করিয়া গড়িয়া তুলিল; পবাপেক্ষা আরো বিচিত্র হইয়া উঠিল। কিন্তু এই বিপুল বৈচিত্র্যের মধ্যে আপনার একটি ঐক্য সবত্রই সে গ্রথিত করিয়া দিয়াছে। ইহার পরে এই ভারতবষেই মসলমানের সংঘাত আসিয়া উপসিথত হইল। এই সংঘাত সমাজকে যে কিছমাত্র আক্ৰমণ করে নাই তাহা বলিতে পারি না। : তখন হিন্দুসমাজে এই পরসংঘাতের সহিত সামঞ্জস্যসাধনের প্রক্রিয়া সবত্রই আরম্ভ হইয়াছিল। হিন্দ ও মসলমান সমাজের মাঝখানে এমন একটি সংযোগস্থল সন্ট হইতেছিল, যেখানে উভয় সমাজের সীমারেখা মিলিয়া আসিতেছিল; নানকপন্থী, কবীরপন্থী ও নিম্নশ্রেণীর বৈষ্ণবসমাজ ইহার দষ্টান্তপথল। আমাদের দেশে সাধারণের মধ্যে নানা পথানে ধম ও আচার লইয়া যে-সকল ভাঙাগড়া চলিতেছে, শিক্ষিতসম্প্রদায় তাহার কোনো খবর রাখেন না। যদি রাখিতেন তো দেখিতেন, এখনো ভিতরে ভিতরে এই সামঞ্জস্যসাধনের সজীব প্রক্লিয়া বন্ধ নাই। সম্প্রতি আর-এক প্রবল বিদেশী আর-এক ধম আচারব্যবহার ও শিক্ষাদীক্ষা লইয়া আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। এইরপে পথিবীতে যে চার প্রধান ধমকে আশ্রয় করিয়া চার বহৎ সমাজ আছে—হিন্দ বৌদ্ধ মুসলমান খাস্টান— তাহারা সকলেই ভারতবর্ষে আসিয়া মিলিয়াছে। বিধাতা যেন একটা বহৎ সামাজিক-সম্মিলনের জন্য ভারতবষেই একটা বড়ো রাসায়নিক কারখানা-ঘর খলিয়াছেন। এখানে একটা কথা আমাকে স্বীকার করিতে হইবে যে, বৌদ্ধপ্রাদাভাবের সময় সমাজে যে-একটা মিশ্রণ ও বিপৰ্যসূত্নতা ঘটিয়াছিল, তাহাতে পরবতী