পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সবদেশী সমাজ ®ጫ . হিন্দুসমাজের মধ্যে একটা ভয়ের লক্ষণ রহিয়া গিয়াছে। বৌদ্ধপরবতী হিন্দসমাজ আপনার যাহা-কিছু আছে ও ছিল তাহাই আটে-ঘাটে রক্ষা করিবার জন্য পরসংস্রব হইতে নিজেকে সবাতোভাবে অবরুদ্ধ রাখিবার জন্য নিজেকে জাল দিয়া বেড়িয়াছে। ইহাতে ভারতবর্ষকে আপনার একটি মহৎ পদ হারাইতে হইয়াছে। এক সময়ে ভারতবর্ষ পৃথিবীতে গরের আসন লাভ করিয়াছিল; ধমে বিজ্ঞানে দশনে ভারতবষীয় চিত্তের সাহসের সীমা ছিল না; সেই চিত্ত সকল দিকে সদগম সদর প্রদেশসকল অধিকার করিবার জন্য আপনার শক্তি অবাধে প্রেরণ করিত। এইরপে ভারতবর্ষ যে গরের সিংহাসন জয় করিয়াছিল তাহা হইতে আজ সে ভ্রস্ট হইয়াছে—আজ তাহাকে ছাত্রত্ন স্বীকার করিতে হইতেছে। ইহার কারণ, আমাদের মনের মধ্যে ভয় ঢাকিয়াছে। সমুদ্রযাত্রা আমরা সকল দিক দিয়াই ভয়ে ভয়ে বন্ধ করিয়া দিয়াছি—কি জলময় সমুদ্র, কি জ্ঞানময় সমুদ্র। আমরা ছিলাম বিশেবর, দাঁড়াইলাম পল্লীতে। সঞ্চয় ও রক্ষা করিবার জন্য সমাজে যে ভীর সীশক্তি আছে সেই শক্তিই কৌতুহলপর পরীক্ষাপ্রিয় সাধনশীল পরষশক্তিকে পরাভূত করিয়া একাধিপত্য লাভ করিল। তাই আমরা জ্ঞানরাজ্যেও দঢ়সংস্কারবন্ধ সৈাণপ্রকৃতিসম্পন্ন হইয়া পড়িয়াছি। জ্ঞানের বাণিজ্য ভারতবর্ষ যাহা-কিছ: আরম্ভ করিয়াছিল, যাহা প্রত্যহ বাড়িয়া উঠিয়া জগতের ঐশ্বয বিস্তার করিতেছিল, তাহা আজ আর বাড়িতেছে না, তাহা খোওয়া-ই যাইতেছে। জ্ঞানের অধিকার, ধমের অধিকার, তপস্যার অধিকার আমাদের সমাজের যথার্থ প্রাণের আধার ছিল। যখন হইতে আচারপালন-মারই তপস্যার পথান গ্রহণ করিল তখন হইতে আমরা অন্যকেও কিছ দিতেছি না, আপনার যাহা ছিল তাহাকেও অকমণ্য ও বিকৃত করিতেছি। ইহা নিশ্চয় জানা চাই, প্রত্যেক জাতিই বিশ্বমানবের অঙ্গ। বিশ্বমানবকে দান করিবার, সহায়তা করিবার সামগ্রী কী উদ্ভাবন করিতেছে, ইহারই সদত্তের দিয়া প্রত্যেক জাতি প্রতিষ্ঠালাভ করে। যখন হইতে সেই উদ্ভাবনের প্রাণশক্তি কোনো জাতি হারায়, তখন হইতেই সেই বিরাট মানবের কলেবরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত অঙ্গের ন্যায় সে কেবল ভারস্বরপে বিরাজ করে। বস্তুত, কেবল টিকিয়া থাকাই গৌরব নহে। ভারতবর্ষ রাজ্য লইয়া মারামারি, বাণিজ্য লইয়া কাড়াকড়ি করে নাই। আজ যে তিব্বত চীন জাপান অভ্যাগত য়রোপের ভয়ে সমস্ত বার-বাতায়ন রন্ধ করিতে ইচ্ছাক, সেই তিব্বত চীন জাপান ভারতবর্ষকে গরম বলিয়া