পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বদেশী সমাজ (&సి একটি বহৎ ব্যবস্থার মধ্যে সকলকেই সে স্থান দিতে চায়। এইজন্য সকল পন্থাকেই সে স্বীকার করে, সবসথানে সকলেরই মাহাত্ম্য সে দেখিতে পায়। ভারতবর্ষের এই গণে থাকাতে কোনো সমাজকে আমাদের বিরোধী কল্পনা করিয়া আমরা ভীত হইব না। প্রত্যেক নব নব সংঘাতে আমরা আমাদের বিস্তারেরই প্রত্যাশা করিব। হিন্দ বৌদ্ধ মসলমান খাস্টান ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে পরপর লড়াই করিয়া মরিবে না, এইখানে তাহারা সামঞ্জস্য খ:জিয়া পাইবে। এই সামঞ্জস্যের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যতই দেশবিদেশের হউক, তাহার প্রাণ, তাহার আত্মা ভারতবষের । আমরা ভারতবষের বিধাতুনিদিষ্ট এই নিয়োগটি যদি সমরণ করি তবে আমাদের লক্ষ্য সিথর হইবে, লজা দর হইবে—ভারতবষের মধ্যে যে-একটি মৃত্যুহীন শক্তি আছে তাহার সন্ধান পাইব । আমাদিগকে ইহা মনে রাখিতেই হইবে যে, য়রোপের জ্ঞানবিজ্ঞানকে যে চিরকালই আমরা শুদ্ধমাত্র ছাত্রের মতো গ্রহণ করিব, তাহা নহে; ভারতবর্ষের সরস্বতী জ্ঞানবিজ্ঞানের সমস্ত দল ও দলাদলিকে একটি শতদল পদ্মের মধ্যে বিকশিত করিয়া তুলিবেন, তাহাদের খণ্ডতা দর করিবেন। ঐক্যসাধনাই ভারতবষীয় প্রতিভার প্রধান কাজ। ভারতবষী কাহাকেও ত্যাগ করিবার, কাহাকেও দরে রাখিবার পক্ষে নহে; ভারতবষী সকলকেই স্বীকার করিবার, গ্রহণ করিবার, বিরাট একের মধ্যে সকলকেই সব-স্ব-প্রধান প্রতিষ্ঠা উপলব্ধি করিবার পন্থা এই বিবাদনিরত ব্যবধানসংকুল পথিবীর সম্মখে একদিন নির্দেশ করিয়া দিবে। সেই সামহং দিন আসিবার পাবে-একবার তোরা মা বলিয়া ডাক ' যে মা দেশের প্রত্যেককে কাছে টানিবার, অনৈক্য ঘচাইবার, রক্ষা করিবার জন্য নিয়ত ব্যাপ্ত রহিয়াছেন, যিনি আপন ভাণ্ডারের চিরসঞ্চিত জ্ঞানধম নানা আকারে নানা উপলক্ষে আমাদের প্রত্যেকের অন্তঃকরণের মধ্যে আশ্রাতভাবে সঞ্চার করিয়া আমাদের চিত্তকে সদেীঘ পরাধীনতার নিশীথরাত্রে বিনাশ হইতে রক্ষা করিয়া আসিয়াছেন—দেশের মধ্যস্থলে সন্তানপরিবত যজ্ঞশালায় তাঁহাকে প্রত্যক্ষ উপলব্ধি করো। আমাদের দেশ তো একদিন ধনকে তুচ্ছ করিতে জানিত, একদিন দারিদ্র্যকেও শোভন ও মহিমান্বিত করিতে শিখিয়াছিল: আজ আমরা কি টাকার কাছে সান্টাঙ্গে ধল্যবল ঠিত হইয়া আমাদের সনাতন সবধমকে অপমানিত করিব। আজ আবার আমরা সেই শাঁচিশন্ধে, সেই মিত-সংষত, সেই সবপোপকরণ জীবনযাত্রা গ্রহণ করিয়া আমাদের তপস্বিনী জননীর সেবায় নিযন্তে হইতে পারিব না? একদিন যাহা আমাদের পক্ষে নিতান্তই সহজ ছিল তাহা কি আমাদের পক্ষে আজ একেবারেই অসাধ্য &