পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্যা আমাদের দেশের সকলের চেয়ে বড়ো সমস্যা যে কী, অলপদিন হইল বিধাতা তাহার প্রতি আমাদের সমস্ত চেতনাকে আকর্ষণ করিয়াছিলেন। আমরা সেদিন মনে করিয়াছিলাম, পার্টিশন-ব্যাপারে আমরা যে অত্যন্ত ক্ষম হইয়াছি ইহাই ইংরেজকে দেখাইব, আমরা বিলাতি নিমকের সবন্ধ কাটিব এবং দেশের বিলাতি বস হরণ না করিয়া জলগ্রহণ করিব না। পরের সঙ্গে যন্ধঘোষণা যেমনি করিয়াছি অমনি ঘরের মধ্যে এমন একটা গোল বাধিল যে, এমনতরো আর কখনো দেখা যায় নাই। হিন্দতে মসলমানে বিরোধ হঠাৎ অত্যন্ত মমান্তিকরপে বীভৎস হইয়া উঠিল। এই ব্যাপার আমাদের পক্ষে যতই একান্ত কষ্টকর হউক, কিন্তু আমাদের সম্পণে নিশ্চিতরাপেই জানা আবশ্যক ছিল, আজও আমাদের দেশে হিন্দ ও মসলমান যে পথক এই বাস্তবটিকে বিস্মত হইয়া আমরা যে কাজ করিতেই যাই না কেন, এই বাস্তবটি আমাদিগকে কখনোই বিস্মত হইবে না। এ কথা বলিয়া নিজেকে ভুলাইলে চলিবে না যে, হিন্দমসেলমানের সম্বন্ধের মধ্যে কোনো পাপই ছিল না, ইংরেজই মসলমানকে আমাদের বিরাধ করিয়াছে। এইসঙ্গে একটা কথা বিশেষ করিয়া মনে রাখিতে হইবে যে, হিন্দ ও মসলমান, অথবা হিন্দদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ বা উচ্চ ও নীচ বর্ণের মধ্যে মিলন না হইলে আমাদের কাজের ব্যাঘাত হইতেছে, অতএব কোনোমতে মিলনসাধন করিয়া আমরা বললাভ করিব-এই কথাটাই সকলের চেয়ে বড়ো কথা নয়, সতরাং ইহাই সকলের চেয়ে সত্য কথা নহে। কেবলমাত্র প্রয়োজনসাধনের সযোগ, কেবলমাত্র সব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি নহিলে মানুষের প্রাণ বাঁচে না। যিশ বলিয়া গিয়াছেন, মানুষ কেবলমাত্র রাটির বারা জীবনধারণ করে না; তাহার কারণ, মানষের কেবল শারীর জীবন নহে। এই-বে বহৎ জীবনের খাদ্যাভাব এ যদি কেবল বাহির হইতেই, ইংরেজশাসন হইতেই ঘটিত, তাহা হইলে কোনোপ্রকারে বাহিরের সংশোধন করিতে পারিলেই আমাদের কায সমাধা হইয়া যাইত। আমাদের নিজের অন্তঃপরের ব্যবস্থাতেও দীর্ঘকাল হইতেই এই উপবাসের ব্যাপার চলিয়া আসিতেছে। আমরা হিন্দ ও মসলমান, আমরা ভারতবর্ষের ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশীয় হিন্দজাতি এক জায়গায় বাস করিতেছি বটে,(কিন্তু মানষে মানুষকে রটির চেয়ে \বে উচ্চতর খাদ্য জোগাইয়া প্রাণে শক্তিতে আনন্দে পরিপন্ট করিয়া তোলে,