পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


やや সংকলন যদি এইখানেই ছেদ দিয়া বলি, বাস, আর নয়, ভারতবর্ষের ইতিহাসকে আমরা হিন্দ-মুসলমানেরই ইতিহাস করিয়া তুলিব, তবে যে বিশ্বকমা মানবসমাজকে সংকীর্ণ কেন্দ্র হইতে ক্রমশ বহৎ পরিধির দিকে গড়িয়া তুলিতেছেন, তিনি কি তাঁহার ল্যান বদলাইয়া আমাদেরই অহংকারকে সাথক করিয়া তুলিবেন। ভারতবর্ষ আমার হইবে কি তোমার হইবে, হিন্দর হইবে কি মসলমানের হইবে, কি আর-কোনো জাত আসিয়া এখানে আধিপত্য করবে, বিধাতার দরবারে যে সেই কথাটাই সবচেয়ে বড়ো করিয়া আলোচিত হইতেছে তাহা নহে। তাঁহার আদালতে নানা পক্ষের উকিল নানা পক্ষের দরখাস্ত লইয়া লড়াই করিতেছে, অবশেষে একদিন মকদ্দমা শেষ হইলে পর হয় হিন্দ, নয় মসলমান, নয় ইংরেজ, নয় আর-কোনো জাতি চড়ান্ত ডিক্লি পাইয়া নিশান গাড়িয়া বসিবে, এ কথা সত্য নহে। আমরা মনে করি জগতে স্বত্বের লড়াই চলিতেছে, সেটা আমাদের অহংকার; লড়াই যা সে সত্যের লড়াই। যাহা সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যাহা সকলের চেয়ে পণ", যাহা চরম সত্য, তাহা সকলকে লইয়া; এবং তাহাই নানা আঘাত-সংঘাতের মধ্য দিয়া হইয়া উঠিবার দিকে চলিয়াছে—আমাদের সমস্ত ইচ্ছা দিয়া তাহাকে আমরা যে পরিমাণে অগ্রসর করিতে চেষ্টা করিব সেই পরিমাণেই আমাদের চেষ্টা সাথক হইবে: নিজেকে—ব্যক্তি হিসাবেই হউক আর জাতি হিসাবেই হউক।--জয়ী করিবার যে চেষ্টা বিশ্ববিধানের মধ্যে তাহার গরত্বে কিছুই নাই। গ্রীসের জয়পতাকা আলেকজাণ্ডারকে আশ্রয় করিয়া সমস্ত পথিবীকে যে একচ্ছত্র করিতে পারে নাই, তাহাতে গ্রীসের দম্ভই অকৃতাৰ্থ হইয়াছে—পথিবীতে আজ সে দভের মলো কী। রোমের বিশ্বসাম্রাজ্যের আয়োজন ববরের সংঘাতে ফাটিয়া খান খান হইয়া সমস্ত য়রোপময় যে বিকীর্ণ হইল, তাহাতে রোমকের অহংকার অসম্পণে হইয়াছে; কিন্তু সেই ক্ষতি লইয়া জগতে আজ কে বিলাপ করিবে। গ্রীস এবং রোম মহাকালের সোনার তরীতে নিজের পাকা ফসল সমস্তই বোঝাই করিয়া দিয়াছে; কিন্তু তাহারা নিজেরাও সেই তরণীর স্থান আশ্রয় করিয়া আজ পর্যন্ত যে বসিয়া নাই, তাহাতে কালের অনাবশ্যক ভারলাঘব করিয়াছে মাত্র, কোনো ক্ষতি করে নাই। ভারতবর্ষেও যে ইতিহাস গঠিত হইয়া উঠিতেছে এ ইতিহাসের শেষ তাৎপয এ নয় যে, এ দেশে হিন্দই বড়ো হইবে বা আর-কেহ বড়ো হইবে। ভারতবর্ষে মানবের ইতিহাস একটি বিশেষ সার্থকতার মতি পরিগ্রহ করবে, পরিপণতাকে একটি অপব আকার দান করিয়া তাহাকে সমস্ত মানবের