পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


もしs সংকলন করিয়া বাহির হইতে হইবে। বিশ্বজগতে আমরা যাহা পাইতে পারি, তিন হাজার বৎসর পবেই আমাদের পিতামহেরা তাহা সমস্তই সঞ্চয় করিয়া চুকাইয়া দিয়াছেন, আমরা এমন হতভাগ্য নহি এবং জগৎ এত দরিদ্র নহে; আমরা যাহা করিতে পারি তাহা আমাদের পবেই করা হইয়া গিয়াছে, এ কথা যদি সত্য হয়, তবে জগতের কম ক্ষেত্রে আমাদের প্রকান্ড অনাবশ্যকতা লইয়া আমরা তো পথিবীর ভার হইয়া থাকিতে পারিব না। পথিবীতে আমাদেরও যে প্রয়োজন আছে, সে প্রয়োজন আমাদের নিজের ক্ষুদ্রতার মধ্যেই বন্ধ নহে, তাহা নিখিল মানুষের সঙ্গে জ্ঞান প্রেম কমের নানা পরিবর্ধমান সম্বন্ধে, নানা উদ্ভাবনে, নানা প্রবতনায় জাগ্রত থাকিবে ও জাগরিত করবে, আমাদের মধ্যে সেই উদ্যম সঞ্চার করিবার জন্য ইংরেজ জগতের যজ্ঞেশ্বরের দতের মতো জীণ বার ভাঙিয়া আমাদের ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিয়াছে। তাহাদের আগমন যে পর্যন্ত না সফল হইবে, জগৎ-যজ্ঞের নিমন্ত্রণে তাহাদের সঙ্গে যে পর্যন্ত না যাত্রা করিতে পারিব, সে পর্যন্ত তাহারা আমাদিগকে পীড়া দিবে, তাহারা আমাদিগকে আরামে নিদ্রা যাইতে দিবে না। ইংরেজের আহবান যে পর্যন্ত আমরা গ্রহণ না করিব, তাহদের সঙ্গে মিলন যে পর্যন্ত না সাথক হইবে, সে পর্যন্ত তাহাদিগকে বলপবেক বিদায় করিব, এমন শক্তি আমাদের নাই। যে ভারতবর্ষ অতীতে অঙ্কুরিত হইয়া ভবিষ্যতের অভিমুখে উদ্ভিন্ন হইয়া উঠিতেছে, ইংরেজ সেই ভারতের জন্য প্রেরিত হইয়া আসিয়াছে। সেই ভারতবষী সমস্ত মানুষের ভারতবর্ষ—আমরা সেই ভারতবর্ষ হইতে অসময়ে ইংরেজকে দরে করিব, আমাদের এমন কী অধিকার আছে। বহং ভারতবর্ষের আমরা কে। এ কি আমাদেরই ভারতবর্ষ। সেই আমরা কাহারা। সে কি বাঙালি না মারাঠি না পাঞ্জাবি, হিন্দ না মুসলমান। একদিন যাহারা সম্পণে সত্যের সহিত বলিতে পারবে, আমরাই ভারতবষী, আমরাই ভারতবাসী—সেই অখণ্ড প্রকাণ্ড আমরা'র মধ্যে যে-কেহই মিলিত হউক, তাহার মধ্যে হিন্দ মসলমান ইংরেজ অথবা আরো যে-কেহ আসিয়াই এক হউক না—তাহারাই হুকুম করিবার অধিকার পাইবে এখানে কে থাকিবে আর কে না থাকিবে। ইংরেজের সঙ্গে আমাদের মিলন সাথক করিতে হইবে। মহাভারতবষীগঠন-ব্যাপারে এই ভার আজ আমাদের উপরে পড়িয়াছে। অধনাতন কালে দেশের মধ্যে যাহারা সকলের চেয়ে বড়ো মনীষী তাঁহারা পশ্চিমের সঙ্গে পাবকে মিলাইয়া লইবার এই কাজেই জীবনযাপন করিয়াছেন। তাহার দন্টান্ত রামমোহন রায়। তিনি মনুষ্যত্বের ভিত্তির উপরে ভারতবর্ষকে