পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


< 0 সংকলন ভারতবর্ষের ইতিহাসের মধ্যে পাশ্চাত্তাকে অস্বীকার করিয়া ভারতবর্ষকে সংকীর্ণ সংস্কারের মধ্যে চিরকালের জন্য সংকুচিত করা তাঁহার জীবনের উপদেশ নহে। গ্রহণ করিবার, মিলন করিবার, সজন করিবার প্রতিভাই তাহার ছিল। তিনি ভারতবর্ষের সাধনাকে পশ্চিমে ও পশ্চিমের সাধনাকে ভারতবষে দিবার ও লইবার পথ-রচনার জন্য জীবন উৎসগ করিয়াছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র বঙ্গদর্শনে যেদিন অকস্মাৎ পব-পশ্চিমের মিলনযজ্ঞ আহবান করিলেন সেইদিন হইতে বঙ্গসাহিত্যে অমরতার আবাহন হইল, সেইদিন হইতে বঙ্গসাহিত্য মহাকালের অভিপ্রায়ে যোগদান করিয়া সার্থকতার পথে দাঁড়াইল । বঙ্গসাহিত্য যে দেখিতে দেখিতে এমন বধিলাভ করিয়া উঠিতেছে তাহার কারণ, এ সাহিত্য সেই-সকল কৃত্রিম বন্ধন ছেদন করিয়াছে যাহাতে বিশ্বসাহিত্যের সহিত ইহার ঐক্যের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। ইহা ক্রমশই এমন করিয়া রচিত হইয়া উঠিয়াছে, যাহাতে পশ্চিমের জ্ঞান ও ভাব ইহা সহজে আপনারই করিয়া গ্রহণ করিতে পারে। বঙ্কিম যাহা রচনা করিয়াছেন, কেবল তাহার জন্যই যে তিনি বড়ো তাহা নহে, তিনিই বাংলাসাহিত্যে পাব-পশ্চিমের আদানপ্রদানের রাজপথকে প্রতিভাবলে ভালো করিয়া মিলাইয়া দিতে পারিয়াছেন।• এই মিলনতত্ত্ব বাংলাসাহিত্যের মাঝখানে প্রতিষ্ঠিত হইয়া ইহার সস্টিশক্তিকে জাগ্রত করিয়া তুলিয়াছে। শিক্ষিতসম্প্রদায়ের মধ্যে আজ আমরা অনেকেই মনে করি যে, ভারতবর্ষে আমরা নানা জাতি যে একত্রে মিলিত হইবার চেষ্টা করিতেছি ইহার উদ্দেশ্য পোলিটিক্যাল বল লাভ করা। এমন করিয়া যে জিনিসটা বড়ো তাহাকে আমরা ছোটোর দাস করিয়া দেখিতেছি। ভারতবর্ষে আমরা সকল মানষে মিলিব, ইহা অন্য-সকল উদ্দেশ্যের চেয়ে বড়ো, কারণ ইহা মনুষ্যত্ব। মিলিতে যে পারিতেছি না ইহাতে আমাদের মনুষ্যত্বের মলনীতি ক্ষম হইতেছে, সতরাং সব প্রকার শক্তিই ক্ষীণ হইয়া সবারই বাধা পাইতেছে, ইহা আমাদের পাপ; ইহাতে আমাদের ধম নষ্ট হইতেছে বলিয়া সকলই নষ্ট হইতেছে। সেই ধমাবধি হইতে এই মিলনচেস্টাকে দেখিলে তবেই এই চেষ্টা সার্থক হইবে। কিন্তু ধমাবধি তো কোনো ক্ষুদ্র অহংকার বা প্রয়োজনের মধ্যে বন্ধ নহে। সেই বধির অন্যগত হইলে আমাদের মিলনচেষ্টা কেবল যে ভারতবর্ষের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষুদ্র জাতির মধ্যেই বন্ধ হইবে তাহা নহে, এই চেষ্টা ইংরেজকেও ভারতবর্ষের করিয়া লইবার জন্য নিয়ত নিযন্ত হইবে। ” সম্প্রতি ইংরেজের সঙ্গে ভারতবর্ষের শিক্ষিত, এমনকি অশিক্ষিত সাধারণের মধ্যেও যে বিরোধ জন্মিয়াছে, তাহাকে আমরা কী ভাবে গ্রহণ করিব।