পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SAS SSAS SSAS SSAS SSAS পাব ও পশ্চিম & S. তাহার মধ্যে কি কোনো সত্য নাই। কেবল তাহা কয়েকজন চক্রান্তকারীর ইন্দ্রজাল মাত্র ? ভারতবষের মহাক্ষেত্রে যে নানা জাতি ও নানা শক্তির সমাগম হইয়াছে, ইহাদের সংঘাতে সম্মিলনে যে ইতিহাস গঠিত হইয়া উঠিতেছে, বর্তমান বিরোধের আবত কি একেবারেই তাহার প্রতিকল। তাহা নহে; বিরোধের যথাথ তাৎপর্য কী তাহা আমাদিগকে বঝিতে হইবে ৮ আমাদের দেশে ভক্তিতত্ত্বে বিরোধকেও মিলনসাধনার একটা অংগ বলা হয়। লোকপ্রসিদ্ধি আছে যে, রাবণ ভগবানের শত্রতা করিয়া মন্তিলাভ করিয়াছিল। ইহার অর্থ এই যে, সত্যের নিকট পরাস্ত হইলে নিবিড়ভাবে সত্যের উপলব্ধি হইয়া থাকে। সত্যকে অবিরোধে অসংশয়ে সহজে গ্রহণ করিলে তাহাকে সম্পণে গ্রহণ করা হয় না। এইজন্য সন্দেহ এবং প্রতিবাদের সঙ্গে অত্যন্ত কঠোরভাবে লড়াই করিয়া তবেই বৈজ্ঞানিকতত্ত্ব প্রতিষ্ঠালাভ করে। আমরা একদিন মগধভাবে জড়ভাবে য়রোপের কাছে ভিক্ষাবত্তি অবলম্বন করিয়াছিলাম ; আমাদের বিচারবন্ধি একেবারে অভিভূত হইয়া গিয়াছিল; এমন করিয়া যথার্থভাবে লাভ করা যায় না। জ্ঞানই বলো আর রাষ্ট্ৰীয় অধিকারই বলো, তাহা উপাজনের অপেক্ষা রাখে—অথাৎ বিরোধ ও ব্যাঘাতের ভিতর দিয়া আত্মশক্তির দ্বারা লাভ করিলেই তবে তাহার উপলব্ধি ঘটে-— কেহ তাহা আমাদের হাতে তুলিয়া দিলে তাহা আমাদের হস্তগত হয় না। যেভাবে গ্রহণে আমাদের অবমাননা হয়, সেভাবে গ্রহণ করিলে ক্ষতিই হইতে থাকে । এইজন্যই কিছুদিন হইতে পাশ্চাত্ত্য শিক্ষা ও ভাবের বিরুদ্ধে আমাদের মনে একটা বিদ্রোহ উপসিথত হইয়াছে। একটা আত্মাভিমান জন্মিয়া আমাদিগকে ধাক্কা দিয়া নিজের দিকে ঠেলিয়া দিতেছে। যে মহাকালের অভিপ্রায়ের কথা বলিয়াছি, সেই অভিপ্রায়ের অন্যগত হইয়াই এই আত্মাভিমানের প্রয়োজন ঘটিয়াছিল। আমরা নিবিচারে নিবিরোধে দবলভাবে দীনভাবে যাহা পাইয়াছিলাম, তাহা যাচাই করিয়া, তাহার মাল্য বুঝিয়া, তাহাকে আপন করিতে পারিতেছিলাম না; তাহা বাহিরের জিনিস, পোশাকী জিনিস হইয়া উঠিতেছিল বলিয়াই আমাদের মধ্যে একটা পশ্চাদবতনের তাড়না আসিয়াছে। রামমোহন রায় যে পশ্চিমের ভাবকে আত্মসাং করিতে পারিয়াছিলেন তাহার প্রধান কারণ, পশ্চিম তাঁহাকে অভিভূত করে নাই; তাঁহার আপনার দিকে দব্যলতা ছিল না। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠাভূমির উপরে দাঁড়াইয়া