পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१२ সংকলন বাহিরের সামগ্ৰী আহরণ করিয়াছিলেন। ভারতবর্ষের ঐশ্ববষ কোথায় তাহা তাহার অগোচর ছিল না, এবং তাহাকে তিনি নিজস্ব করিয়া লইয়াছিলেন; এইজন্যই যেখান হইতে যাহা পাইয়াছেন তাহা বিচার করিবার নিন্তি ও মানদণ্ড তাঁহার হাতে ছিল; কোনো মল্যে না বঝিয়া তিনি মধের মতো আপনাকে বিকাইয়া দিয়া অঞ্জলিপরণ করেন নাই। যে শক্তি নব্যভারতের আদি অধিনায়কের প্রকৃতির মধ্যে সহজেই ছিল, আমাদের মধ্যে তাহা নানা ঘাতপ্রতিঘাতে ক্লিয়াপ্রতিক্লিয়ার বন্দ্বের মধ্য দিয়া অভিব্যক্ত হইবার চেস্টা করিতেছে। এই কারণে সেই চেষ্টা পৰ্যায়ক্রমে বিপরীত সীমার চড়াতে গিয়া ঠেকিতেছে। একান্ত অভিমুখতা এবং একান্ত বিমুখতায় আমাদের গতিকে আঘাত করিতে করিতে আমাদিগকে লক্ষ্যপথে লইয়া চলিয়াছে। বতমানে ইংরেজ-ভারতবাসীর যে বিরোধ জাগিয়া উঠিয়াছে, তাহার একটা কারণ এই প্রতিক্লিয়ার প্রভাব ; ইংরেজের জ্ঞান ও শক্তিকে ক্ৰমাগত নিশ্চেস্টভাবে মাথা পাতিয়া গ্রহণ করিতে করিতে আমাদের অন্তরাত্মা পীড়িত হইয়া উঠিতেছিল। সেই পীড়ার মাত্রা অলক্ষিতভাবে জমিতে জমিতে আজ হঠাৎ দেশের অন্তঃকরণ প্রবলবেগে বাকিয়া দাঁড়াইয়াছে। কিন্তু কারণ শধ্যে এই একটিমাত্র নহে। ভারতবর্ষের গহের মধ্যে পশ্চিম আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে; তাহাকে কোনোমতেই ব্যথ ফিরাইয়া দিতে পারিব না, তাহাকে আপনার শক্তিতে আপনার করিয়া লইতে হইবে। আমাদের তরফে সেই আপন করিয়া লইবার আত্মশক্তির যদি অভাব ঘটে তবে তাহাতে কালের অভিপ্রায়বেগ ব্যাঘাত পাইয়া বিপ্লব উপসিথত করিবে। আবার অন্য পক্ষেও পশ্চিম যদি নিজেকে সত্যভাবে প্রকাশ করিতে কৃপণতা করে তবে তাহাতেও বিক্ষোভ উপসিথত হইবে। ইংরেজের যাহা শ্রেষ্ঠ, যাহা সত্য, তাহার সহিত আমাদের যদি সংস্রব না ঘটে, ইংরেজের মধ্যে যদি প্রধানত আমরা সৈনিকের বা বণিকের পরিচয় পাই, অথবা যদি কেবল শাসনতন্ত্রচালকরপে তাহাকে আপিসের মধ্যে ধৰ্ম্মারঢ়ে দেখিতে থাকি, যে ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে মানুষ আত্মীয়ভাবে মিশিয়া পরস্পরকে অন্তরে গ্রহণ করিতে পারে সে ক্ষেত্রে যদি তাহার সঙ্গে আমাদের সংস্পশ না থাকে, যদি পরপর ব্যবহিত হইয়া পথক হইয়া থাকি, তবে আমরা পরস্পরের পক্ষে পরম নিরানন্দের বিষয় হইয়া উঠিবই। একদা ডেভিড হেয়ারের মতো মহাত্মা অত্যন্ত নিকটে আসিয়া ইংরেজ-চরিত্রের মহত্ত্ব আমাদের হৃদয়ের সমখে আনিয়া ধরিতে পারিয়াছিলেন; তখনকার ছাত্রগণ