পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাব ও পশ্চিম ●《) সত্যই ইংরেজজাতির নিকট হাদয় সমপণ করিয়াছিল। পবিকালের ছাত্রগণ ইংরেজের সাহিত্য, ইংরেজের শিক্ষা যেমন সমস্ত মন দিয়া গ্রহণ করিত, এখনকার ছাত্ররা তাহা করে না; তাহারা গ্রাস করে, তাহারা ভোগ করে না। সেকালের ছাত্রগণ যেরপে আন্তরিক অন্যরাগের সহিত শেকসপিয়র, বায়রনের কাব্যরসে চিত্তকে অভিষিক্ত করিয়া রাখিয়াছিলেন, এখন তাহা দেখিতে পাই না। সাহিত্যের ভিতর দিয়া ইংরেজজাতির সঙ্গে যে প্রেমের সম্মবন্ধ সহজে ঘটিতে পারে, তাহা এখন বাধা পাইয়াছে। অধ্যাপক বলো, ম্যাজিস্ট্রেট বলো, সদাগর বলো, পলিসের কতা বলো, সকল প্রকার সম্পকেই ইংরেজ তাহার ইংরেজি সভ্যতার চরম অভিব্যক্তির পরিচয় অবাধে আমাদের নিকট পথাপিত করিতেছে না—সতরাং ভারতবর্ষে ইংরেজ-আগমনের যে সব শ্রেষ্ঠ লাভ তাহা হইতে ইংরেজ আমাদিগকে বঞ্চিত করিতেছে। সশাসন এবং ভালো আইনই যে মানুষের পক্ষে সকলের চেয়ে বড়ো লাভ তাহা নহে। আপিস আদালত আইন এবং শাসন তো মানুষ নয়। মানুষ যে মানুষকে চায়—তাহাকে যদি পায় তবে অনেক দঃখ, অনেক অভাব সহিতেও সে রাজি আছে। মানুষের পরিবতে' আইন, রুটির পরিবতে পাথরেরই মতো। সে পাথর দলভ এবং মল্যেবান হইতে পারে কিন্তু তাহাতে ক্ষুধা দরে হয় না। এইরপে পাব ও পশ্চিমের সম্যক মিলনের বাধা ঘটিতেছে বলিয়াই আজ যত-কিছু উৎপাত জাগিয়া উঠিতেছে। কাছে থাকিব অথচ মিলিব না, এ অবস্থা মানুষের পক্ষে অসহ্য এবং অনিষ্টকর। সতরাং একদিন-নাএকদিন ইহার প্রতিকারের চেষ্টা দমদম হইয়া উঠিবেই। এ বিদ্রোহ নাকি হৃদয়ের বিদ্রোহ, সেইজন্য ইহা ফলাফলের হিসাব বিচার করে না, ইহা আত্মহত্যা স্বীকার করিতেও প্রস্তুত হয়। তৎসত্ত্বেও ইহা সত্য যে, এ-সকল বিদ্রোহ ক্ষণিক, কারণ পশ্চিমের সঙ্গে আমাদিগকে সত্যভাবেই মিলিতে হইবে, এবং তাহার যাহা-কিছু গ্রহণ করিবার তাহা গ্রহণ না করিয়া ভারতবর্ষের অব্যাহতি নাই। এইবার একটি কথা বলিয়া প্রবন্ধ শেষ করিব। ইংরেজের যাহা-কিছল শ্রেষ্ঠ, ইংরেজ তাহা যে সম্পর্ণেভাবে ভারতবর্ষে প্রকাশ করিতে পারিতেছে না, সেজন্যও আমরা দায়ী আছি। আমাদের দৈন্য ঘচাইলে তবে তাহাদেরও কৃপণতা ঘুচিবে। বাইবেলে লিখিত আছে, যাহার আছে তাহাকেই দেওয়া হইবে। ইংরেজ যাহা দিতে আসিয়াছে তাহা দিতে পারবে। আমরা রিক্তহস্তে