পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●bf সংকলন কৌতুহলদষ্টি মধকরশ্রেণীর মতো উধের উৎক্ষিপ্ত হইতেছে, সেখান হইতে । আমরা বিচ্যুত হইয়াছি, এখন কবির মেঘ ছাড়া সেখানে আর কাহাকেও দত পাঠাইতে পারি না। মনে পড়িতেছে, কোনো ইংরেজ কবি লিখিয়াছেন, মানুষেরা এক-একটি বিচ্ছিন্ন বীপের মতো, পরপরের মধ্যে অপরিমেয় আশ্রলেবণাক্ত সমদ্র। দর হইতে যখনই পরস্পরের দিকে চাহিয়া দেখি মনে হয়, এককালে আমরা এক মহাদেশে ছিলাম, এখন কাহার অভিশাপে মধ্যে বিচ্ছেদের বিলাপরাশি ফেনিল হইয়া উঠিতেছে। আমাদের এই সমদ্রবেষ্টিত ক্ষুদ্র বর্তমান হইতে যখন কাব্যবর্ণিত সেই অতীত ভূখণ্ডের তটের দিকে চাহিয়া দেখি তখন মনে হয়, সেই সিপ্রাতারের যথৌবনে যে পড়পলাবী রমণীরা ফল তুলিত, অবতীর নগরচম্বরে যে বন্ধগণ উদয়নের গল্প বলিত, এবং আষাঢ়ের প্রথম মেঘ দেখিয়া যে পথিক প্রবাসীরা নিজ নিজ দীর জন্য বিরহব্যাকুল হইত, তাহাদের এবং আমাদের মধ্যে যেন সংযোগ থাকা উচিত ছিল। আমাদের মধ্যে মনুষ্যত্বের নিবিড় ঐক্য আছে, অথচ কালের নিষ্ঠর ব্যবধান। কবির কল্যাণে এখন সেই অতীতকাল অমর সৌন্দর্যের অলকাপুরীতে পরিণত হইয়াছে; আমরা আমাদের বিরহবিচ্ছিন্ন এই বর্তমান মতলোক হইতে সেখানে কল্পনার মেঘ দত প্রেরণ করিয়াছি। কিন্তু কেবল অতীত বৰ্তমান নহে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে অতলপশ* বিরহ। আমরা যাহার সহিত মিলিত হইতে চাহি, সে আপনার মানসসরোবরের অগম্য তীরে বাস করিতেছে, সেখানে কেবল কলপনাকে পাঠানো যায়, সেখানে সশরীরে উপনীত হইবার কোনো পথ নাই। আমিই বা কোথায় আর তুমিই বা কোথায়। মাঝখানে একেবারে অনন্ত। কে তাহা উত্তীর্ণ হইবে। অনন্তের কেন্দ্রবতী সেই প্রিয়তম অবিনশ্বর মানুষটির সাক্ষাৎ কে লাভ করিবে । আজ কেবল ভাষায়-ভাবে আভাসে-ইঙ্গিতে ভুল-ভ্রান্তিতে আলো-অাঁধারে দেহে-মনে জন্মমৃত্যুর দ্রুততর স্লোতোবেগের মধ্যে তাহার একটুখানি বাতাস পাওয়া যায় মাত্র। যদি তোমার কাছ হইতে একটা দক্ষিণের হাওয়া আমার কাছে আসিয়া পৌছে তবে সেই আমার বহভাগ্য, তাহার অধিক এই বিরহলোকে কেহই আশা করিতে পারে না। ভিত্ত্বা সদ্যঃ কিসলয়পটোন দেবদারদ্রেমাণাং যে তৎক্ষীরস্রতিসরভয়ো দক্ষিণেন প্রবত্তাঃ আলিঙ্গ্যন্তে গণবতি ময়া তে তুষারাদ্রিবাতাঃ পবং স্পষ্টং যদি কিল ভবেদঙ্গমেভিস্তবেতি ॥