পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মেঘদত & S. এই চিরবিরহের কথা উল্লেখ করিয়া বৈষ্ণব কবি গাহিয়াছেন— দহ কোলে দহ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া। আমরা প্রত্যেকে নিজন গিরিশব্গে একাকী দণ্ডায়মান হইয়া উত্তর-মখে চাহিয়া আছি—মাঝখানে আকাশ এবং মেঘ, এবং সন্দেরী পথিবীর রেবাসিপ্রা, অবন্তী-উজয়িনী, সখে-সৌন্দৰ্য-ভোগ-ঐশ্বর্যের চিত্ৰলেখা; যাহাতে মনে করাইয়া দেয়, কাছে আসিতে দেয় না ; আকাঙ্ক্ষার উদ্রেক করে, নিবত্তি করে না। দটি মানুষের মধ্যে এতটা দর। কিন্তু এ কথা মনে হয়, আমরা যেন কোনো-এক কালে একত্র এক মানসলোকে ছিলাম, সেখান হইতে নিবাসিত হইয়াছি। তাই বৈষ্ণব কবি বলেন, তোমায় হিয়ার ভিতর হইতে কে কৈল বাহির। এ কী হইল। যে আমার মনোরাজ্যের লোক, সে আজ বাহিরে আসিল কেন । ওখানে তো তোমার স্থান নয়। বলরাম দাস বলিতেছেন, তোই বলরামের, পহু, চিত নহে স্থির। যাহারা একটি সব ব্যাপী মনের মধ্যে এক হইয়া ছিল, তাহারা আজ সব বাহির হইয়া পড়িয়াছে। তাই পরস্পরকে দেখিয়া চিত্ত শ্বির হইতে পারিতেছে না—বিরহে বিধরে, বাসনায় ব্যাকুল হইয়া পড়িতেছে। আবার হৃদয়ের মধ্যে এক হইবার চেষ্টা করিতেছি, কিন্তু মাঝখানে বহৎ পথিলী ৷ হে নিজন গিরিশিখরের বিরহী, স্বপেন যাহাকে আলিঙ্গন করিতেছ, মেঘের মুখে যাহাকে সংবাদ পাঠাইতেছ, কে তোমাকে আশবাস দিল যে, এক অপব সৌন্দৰ্যলোকে শরৎপণিমারাত্রে তাহার সহিত চিরমিলন হইবে। তোমার তো চেতন-অচেতনে পাথক্য জ্ঞান নাই, কী জানি যদি সত্য ও কল্পনার মধ্যেও প্রভেদ হারাইয়া থাক! > ミぬbf