পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শকুন্তলা সহজেই উদয় হইতে পারে। ইহাদের বাহ্য সাদশ্য এবং আন্তরিক অনৈক্য আলোচনা করিয়া দেখিবার বিষয়। নিজনিলালিতা মিরান্দার সহিত রাজকুমার ফাদিনান্দের প্রণয় তাপসকুমারী শকুন্তলার সহিত দযন্তের প্রণয়ের অন্যর প। ঘটনাস্থলটিরও সাদশ্য আছে; এক পক্ষে সমুদ্রবেষ্টিত বীপ, অপর পক্ষে তপোবন। এইরপে উভয়ের আখ্যানমলে ঐক্য দেখিতে পাই, কিন্তু কাব্যরসের সবাদ সপণ বিভিন্ন, তাহা পড়িলেই অনুভব করিতে পারি। য়রোপের কবিকুলগর গেটে একটিমাত্র শেলাকে শকুন্তলার সমালোচনা লিখিয়াছেন, তিনি কাব্যকে খণ্ড খণ্ড বিচ্ছিন্ন করেন নাই। তাঁহার লোকটি একটি দীপবতিকার শিখার ন্যায় ক্ষুদ্র, কিন্তু তাহা দীপশিখার মতো সমগ্র শকুন্তলাকে একম হতে উদ্ভাসিত করিয়া দেখাইবার উপায়। তিনি এক কথায় বলিয়াছিলেন, কেহ যদি তরণ বৎসরের ফল ও পরিণত বৎসরের ফল, কেহ যদি মত ও বগ একত্র দেখিতে চায়, তবে শকুন্তলায় তাহা পাইবে। অনেকেই এই কথাটি কবির উচ্ছাসমার মনে করিয়া লঘভাবে পাঠ করি: থাকেন। তাঁহারা মোটামুটি মনে করেন, ইহার অর্থ এই যে, গেটের মতে শকুন্তলা কাব্যখানি অতি উপাদেয়। কিন্তু তাহা নহে। গেটের এই লোকটি আনন্দের অত্যুক্তি নহে, ইহা রষজ্ঞের বিচার। ইহার মধ্যে বিশেষত্ব আছে। কবি বিশেষভাবেই বলিয়াছেন, শকুন্তলার মধ্যে একটি গভীর পরিণতির ভাব আছে; সে পরিণতি, ফল হইতে ফলে পরিণতি, মত হইতে বগে পরিণতি, স্বভাব হইতে ধমে পরিণতি। মেঘদতে যেমন পবমেঘ ও উত্তরমেঘ আছে— পাবমেঘে পথিবীর বিচিত্র সৌন্দযে পর্যটন করিয়া উত্তরমেঘে অলকাপুরীর নিত্য সৌন্দযে উত্তীণ হইতে হয়, তেমনি শকুন্তলায় একটি পাবমিলন ও একটি উত্তরমিলন আছে। প্রথম-অঙ্কবতী সেই মতের চঞ্চল সৌন্দর্যময় বিচিত্র পাবমিলন হইতে সবগতপোবনে শাশ্বত আনন্দময় উত্তরমিলনে যারাই অভিজ্ঞানশকুন্তল নাটক। সবগ ও মতের এই-যে মিলন, কালিদাস ইহা অত্যন্ত সহজেই করিয়াছেন। ফলকে তিনি এমনি স্বভাবত ফলে ফলাইয়াছেন, মতের সীমাকে তিনি এমনি করিয়া সবগের সহিত মিশাইয়া দিয়াছেন যে, মাঝে কোনো ব্যবধান কাহারো চোখে পড়ে না। প্রথম আকে শকুন্তলার পতনের মধ্যে কবি মতের মাটি