পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শকুন্তলা 切ss কিছুই গোপন রাখেন নাই; তাহার মধ্যে বাসনার প্রভাব যে কতদর বিদ্যমান, তাহা দূষ্যন্ত শকুন্তলা উভয়ের ব্যবহারেই কবি সপষ্ট দেখাইয়াছেন। যৌবনমত্ততার হাবভাব-লীলাচাঞ্চল্য, পরম লজ্জার সহিত প্রবল আত্মপ্রকাশের সংগ্রাম, সমস্তই কবি ব্যক্ত করিয়াছেন। ইহা শকুন্তলার সরলতার নিদশন। অনকেল অবসরে এই ভাবাবেশের আকস্মিক আবিভাবের জন্য সে পাব হইতে প্রস্তুত ছিল না। সে আপনাকে দমন করিবার, গোপন করিবার উপায় করিয়া রাখে নাই। যে হরিণী ব্যাধকে চেনে না, তাহার কি বিন্ধ হইতে বিলম্বব লাগে। শকুন্তলা পঞ্চশরকে ঠিকমতো চিনিত না, এইজনাই তাহার মমপথান অরক্ষিত ছিল। সে না কন্দপকে, না দষান্তকে, কাহাকেও অবিশ্বাস করে নাই । শকুন্তলার পরাভব যেমন অতি সহজে চিত্রিত হইয়াছে, তেমনি সেই পরাভব সত্ত্বেও তাহার চরিত্রের গভীরতর পবিত্রতা, তাহার স্বাভাবিক অক্ষণ সতীত্ব অতি অনায়াসেই পরিসফট হইয়াছে। ইহাও তাহার সরলতার নিদশন। ঘরের ভিতরে যে কৃত্রিম ফলে সাজাইয়া রাখা যায় তাহার ধলা প্রত্যহ না ঝাড়িলে চলে না, কিন্তু অরণ্যফলের ধলা ঝাড়িবার জন্য লোক রাখিতে হয় না—সে অনাদত থাকে, তাহার গায়ে ধলোও লাগে, তব সে কেমন করিয়া সহজে আপনার সন্দের নিম’লতাটুকু রক্ষা করিয়া চলে। শকুন্তলাকেও ধলা লাগিয়াছিল, কিন্তু তাহা সে নিজে জানিতেও পারে নাই— সে অরণ্যের সরলা মগীর মতো, নিঝ"রের জলধারার মতো, মলিনতার সংস্রবেও অনায়াসেই নিমলি। কালিদাস তাঁহার এই আশ্রমপালিতা উভিন্নযৌবনা শকুন্তলাকে সংশয়বিরহিত সবভাবের পথে ছাড়িয়া দিয়াছেন, শেষ পর্যন্ত কোথাও তাহাকে বাধা দেন নাই। আবার অন্য দিকে তাহাকে অপ্ৰগলভা, দুঃখশীলা, নিয়মচারিণী, সতাঁধমের আদশর পিণী করিয়া ফটাইয়া তুলিয়াছেন। এক দিকে তরলেতাফলপপের ন্যায় সে আত্মবিস্মত স্বভাবধমের অনাগতা, আবার অন্য দিকে তাহার অন্তরতম নারীপ্রকৃতি সংযত সহিষ্ণ, সে একাগ্রতপঃপরায়ণা, কল্যাণধমের শাসনে একান্ত নিয়ন্ত্রিতা। কালিদাস অপরাপ কৌশলে তাঁহার নায়িকাকে লীলা ও ধৈয্যের, স্বভাব ও নিয়মের, নদী ও সমুদ্রের ঠিক মোহানার উপর পথাপিত করিয়া দেখাইয়াছেন। তাহার পিতা ঋষি, তাহার মাতা অপসরা ; ব্ৰতভঙ্গে তাহার জন্ম, তপোবনে তাহার পালন। তপোবন গথানটি এমন যেখানে স্বভাব এবং তপস্যা, সৌন্দর্য এবং সংযম একত্র মিলিত হইয়াছে। সেখানে সমাজের কৃত্রিম বিধান নাই, অথচ ধমের কঠোর নিয়ম বিরাজমান।