পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮜ8 সংকলন অভিষিক্ত করিয়াছে। সে নবকুসমযৌবনা বনজ্যোৎস্নাকে স্নিগ্ধ দটির বারা আপনার কোমল হৃদয়ের মধ্যে গ্রহণ করিয়াছে। শকুন্তলা যখন তপোবন ত্যাগ করিয়া পতিগহে যাইতেছে তখন পদে পদে তাহার আকর্ষণ, পদে পদে তাহার বেদনা। বনের সহিত মানষের বিচ্ছেদ যে এমন মমাতিক সকরণ হইতে পারে, তাহা জগতের সমস্ত সাহিত্যের মধ্যে কেবল অভিজ্ঞানশকুন্তলের চতুথ অঙ্কে দেখা যায়। টেপেস্টে বহিঃপ্রকৃতি এরিয়েলের মধ্যে মানুষ-আকার ধারণ করিয়াছে, কিন্তু তব সে মানুষের আত্মীয়তা হইতে দরে রহিয়াছে। মানুষের সঙ্গে তাহার অনিচ্ছক ভূত্যের সম্বন্ধ। সে সবাধীন হইতে চায়, কিন্তু মানবশক্তি বারা পীড়িত আবদ্ধ হইয়া দাসের মতো কাজ করিতেছে। তাহার হৃদয়ে স্নেহ নাই, চক্ষে জল নাই। মিরান্দার নারীহাদয়ও তাহার প্রতি স্নেহ বিস্তার করে নাই। বীপ হইতে যারাকালে প্রস্পেরো ও মিরান্দার সহিত এরিয়েলের নিগধ বিদায়সম্ভাষণ হইল না। টেম্পেস্টে পীড়ন শাসন দমন; শকুন্তলায় প্রতি শান্তি সদ্ভাব। টেম্পেসেট প্রকৃতি মানুষের আকার ধারণ করিয়াও তাহার সহিত হাদয়ের সম্বন্ধে বন্ধ হয় নাই; শকুন্তলায় গাছপালা-পশুপক্ষী আত্মভাব রক্ষা করিয়াও মানুষের সহিত মধর আত্মীয়ভাবে মিলিত হইয়া গেছে। শকুন্তলার আবভেই যখন ধন্যবাণধারী রাজার প্রতি এই করণ নিষেধ উত্থিত হইল—ভো ভো রাজন আশ্রমমগোহয়ং ন হন্তব্যো ন হন্তব্যঃ, তখন কাব্যের একটি মল সুর বাজিয়া উঠিল। এই নিষেধটি আশ্রমমগের সঙ্গে সঙ্গে তাপসকুমারী শকুন্তলাকেও কর্ণাচ্ছাদনে আবত করিতেছে। ঋষি বলিতেছেন : মদ এ মগদেহে মেরো না শর। আগন দেবে কে হে ফলের পর! কোথা হে মহারাজ, মাগের প্রাণ, কোথায় যেন বাজ তোমার বাণ ! এ কথা শকুন্তলা সম্বন্ধেও খাটে। শকুন্তলার প্রতিও রাজার প্রণয়শরনিক্ষেপ নিদারণে। প্রণয়ব্যবসায়ে রাজা পরিপক্ক ও কঠিন—কত কঠিন অন্যত্র তাহার পরিচয় আছে—আর এই আশ্রমপালিতা বালিকার অনভিজ্ঞতা ও