পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শকুন্তলা げ@。 সরলতা বড়োই স্কুমার ও সকরণ। হায়, মাগটি যেমন কাতরবাক্যে রক্ষণীয়, শকুন্তলাও তেমনি। বোঁ অপি অত্র আরণ্যকেী। মগের প্রতি এই কর্ণাবাক্যের প্রতিধর্মনি মিলাইতে না মিলাইতেই দেখি, বকেলবসনা তাপসকন্যা সখীদের সহিত আলবালে জলপ্রণে নিযন্তে, তরসোদর ও লতা-ভগিনীদের মধ্যে তাহার প্রাত্যহিক স্নেহসেবার কমে প্রবত্ত। কেবল বকেলবসন নহে, ভাবে ভংগীতেও শকুন্তলা যেন তরলতার মধ্যেই একটি। তাই দষান্ত বলিয়াছেন : অধর কিসলয়-রাঙিমা-অাঁকা, যুগল বাহ যেন কোমল শাখা, হৃদয়লোভনীয় কুসুম-হেন তনতে যৌবন ফটেছে যেন! নাটকের আরম্ভেই শান্তিসৌন্দর্য সংবলিত এমন একটি সম্পণে জীবন, নিভৃত পতপপল্লবের মাঝখানে প্রাত্যহিক আশ্রমধর্ম, অতিথিসেবা, সখীনেহ ও বিশ্ববাৎসল্য লইয়া আমাদের সম্মখে দেখা দিল। তাহা এমনি অখণ্ড এমনি আনন্দকর যে আমাদের কেবলই আশঙ্কা হয়, পাছে আঘাত লাগিলেই ইহা ভাঙিয়া যায়। দষান্তকে দই উদ্যত বাহর বারা প্রতিরোধ করিয়া বলিতে ইচ্ছা হয়, বাণ মারিয়ো না, মারিয়ো না--এই পরিপণ সৌন্দর্যটি ভাঙিয়ো না। যখন দেখিতে দেখিতে দষান্ত-শকুন্তলার প্রণয় প্রগাঢ় হইয়া উঠিতেছে তখন প্রথম অঙ্কের শেষে নেপথ্যে অকস্মাৎ আতরব উঠিল, 'ভো ভো তপস্বীগণ, তোমরা তপোবনপ্রাণীদের রক্ষার জন্য সতক হও। মাগয়াবিহারী রাজা দষান্ত প্রত্যাসন্ন হইয়াছেন। ইহা সমস্ত তপোবনভূমির ক্লন্দন, এবং সেই তপোবনপ্রাণীদের মধ্যে শকুন্তলাও একটি। কিন্তু কেহ তাহাকে রক্ষা করিতে পারিল না। সেই তপোবন হইতে শকুন্তলা যখন যাইতেছে তখন কন্ব ডাক দিয়া বলিলেন : ওগো সন্নিহিত তপোবন-তরগণ, তোমাদের জল না করি দান যে আগে জল না করিত পান, সাধ ছিল তার সাজিতে, তব সেনহে পাতাটি না ছিড়িত কৰ্ভু,