পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


影も সংকলন তোমাদের ফল ফটিত যবে যে জন মাতিত মহোৎসবে, পতিগহে সেই বালিকা যায়, তোমরা সকলে দেহো বিদায়।’ চেতন-অচেতন সকলের সঙ্গে এমনি অন্তরঙ্গ আত্মীয়তা, এমনি প্রীতি ও কল্যাণের বন্ধন। শকুন্তলা কহিল, ‘হলা প্রিয়ংবদে, আযপত্রকে দেখিবার জন্য আমার প্রাণ আকুল, তব আশ্রম ছাড়িয়া যাইতে আমার পা যেন উঠিতেছে না। প্রিয়ংবদা কহিল, ‘তুমিই যে কেবল তপোবনের বিরহে কাতর, তাহা নহে, তোমার আসন্নবিয়োগে তপোবনেরও সেই একই দশা— মগের গলি পড়ে মুখের তৃণ, ময়র নাচে না যে আর, খসিয়া পড়ে পাতা লতিকা হতে যেন সে অাঁখিজলধার।’ শকুন্তলা কণনকে কহিল, ‘তাত, এই যে কুটিরপ্রান্তচারিণী গভমন্থরা মগবধ, এ যখন নিবিঘ্যে প্রসব করিবে, তখন সেই প্রিয়সংবাদ নিবেদন করিবার জন্য একটি লোককে আমার কাছে পাঠাইয়া দিয়ো।" কণন কহিলেন, “আমি কখনো ভুলিব না। F শকুন্তলা পশ্চাৎ হইতে বাধা পাইয়া কহিল, আরে, কে আমার কাপড় ধরিয়া টানে। কণন কহিলেন, ‘বংসে,— ইঙ্গাদির তৈল দিতে স্নেহ-সহকারে কুশক্ষত হলে মুখ যার, শ্যামাধানামটি দিয়ে পালিয়াছ যারে এই মগ পত্র সে তোমার।' শকুন্তলা তাহাকে কহিল, ওরে বাছা, সহবাসপরিত্যাগিনী আমাকে আর কেন অনসরণ করিস। প্রসব করিয়াই তোর জননী যখন মরিয়াছিল, তখন হইতে আমিই তোকে বড়ো করিয়া তুলিয়াছি। এখন আমি চলিলাম, তাত তোকে দেখিবেন, তুই ফিরিয়া যা। এইরপে সমুদয় তরলতা-মগপক্ষীর নিকট হইতে বিদায় লইয়া কাঁদতে কাঁদতে শকুন্তলা তপোবন ত্যাগ করিয়াছে।