পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏ0 সংকলন আমরা স্তম্ভিত হইয়া যাই। নাটকের প্রথম চারি অঙ্কে যে সংগীতধানি উঠিয়াছিল তাহা এক নিমেষেই নিঃশব্দ হইয়া গেল। তাহার পরে শকুন্তলার চতুদিকে কী গভীর স্তব্ধতা, কী বিরলতা। যে শকুন্তলা কোমল হৃদয়ের প্রভাবে তাহার চারি দিকের বিশ্বব জড়িয়া সকলকে আপনার করিয়া থাকিত, সে আজ কী একাকিনী। তাহার সেই বহং শান্যতাকে শকুন্তলা আপনার একমাত্র মহৎ দঃখের বারা পণ করিয়া বিরাজ করিতেছে। কালিদাস যে তাহাকে কণের তপোবনে ফিরাইয়া লইয়া যান নাই, ইহা তাঁহার অসামান্য কবিত্বের পরিচয়। পাব পরিচিত বনভূমির সহিত তাহার পবের মিলন আর সম্ভবপর নহে। কণাশ্রম হইতে যাত্রাকালে তপোবনের সহিত শকুন্তলার কেবল বাহবিচ্ছেদমাব ঘটিয়াছিল, দষান্তভূবন হইতে প্রত্যাখ্যাত হইয়া সে বিচ্ছেদ সম্পণে হইল—সে শকুন্তলা আর রহিল না, এখন বিশ্বের সহিত তাহার সম্বন্ধপরিবর্তন হইয়া গেছে, এখন তাহাঁকে তাহার পরাতন সম্বন্ধের মধ্যে পথাপন করিলে অসামঞ্জস্য উৎকট নিষ্ঠরভাবে প্রকাশিত হইত। এখন এই দুঃখিনীর জন্য তাহার মহৎ দুঃখের উপযোগী বিরলতা আবশ্যক। কালিদাস শকুন্তলার বিরহদঃখের প্রত্যক্ষ অবতারণা করেন নাই। কবি নীরব থাকিয়া শকুন্তলার চারি দিকের নীরবতা ও শান্যতা আমাদের চিত্তের মধ্যে ঘনীভূত করিয়া দিয়াছেন। কবি যদি শকুন্তলাকে কণাশ্রমের মধ্যে ফিরাইয়া লইয়া এরপ চুপ করিয়াও থাকিতেন, তব সেই আশ্রম কথা কহিত। সেখানকার তরলতার কুন্দন, সখীজনের বিলাপ, আপনিই আমাদের অন্তরের মধ্যে ধৰনিত হইতে থাকিত। কিন্তু অপরিচিত মারীচের তপোবনে সমস্তই আমাদের নিকট সতৰধ, নীরব—কেবল বিশ্ববিরহিত শকুন্তলার নিয়মসংযত ধৈৰ্যগভীর অপরিমেয় দুঃখ আমাদের মানসনেত্রের সম্মুখে ধ্যানাসনে বিরাজমান। এই ধ্যানমগ্ন দুঃখের সমখে কবি একাকী দাঁড়াইয়া আপন ওঠোধরের উপরে তজনী পথাপন করিয়াছেন এবং সেই নিষেধের সংকেতে সমস্ত প্রশনকে নীরব ও সমস্ত বিশ্বকে দরে অপসারিত করিয়া রাখিয়াছেন। দষ্যত এখন অনন্তাপে দগধ হইতেছেন। এই অনন্তাপ তপস্যা। এই অনন্তাপের ভিতর দিয়া শকুন্তলাকে লাভ না করিলে শকুন্তলালাভের কোনো গৌরব ছিল না। হাতে পাইলেই যে পাওয়া, তাহা পাওয়া নহে—লাভ করা অত সহজ ব্যাপার নয়। যৌবনমত্ততার আকস্মিক ঝড়ে শকুন্তলাকে এক মহাতে উড়াইয়া লইলে তাহাকে সম্পর্ণেভাবে পাওয়া যাইত না। লাভ করিবার প্রকৃষ্ট প্রণালী সাধনা, তপস্যা। যাহা অনায়াসেই হস্তগত হইয়াছিল