পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ॐ २ সংকলন পড়িয়া গেল। তাহার পরে লন্জা সংশয় দুঃখ বিচ্ছেদ অনন্তাপ। এবং সবশেষে বিশুদ্ধতর উন্নততর সবগলোকে ক্ষমা প্রীতি ও শান্তি। শকুন্তলাকে of Paradise Lost or Paradise Regained on to "so প্রথম সবগটি বড়ো মদ এবং অরক্ষিত—যদিও তাহা সন্দর এবং সম্পর্ণে বটে, কিন্তু পক্ষপত্রে শিশিরের মতো তাহা সদ্যঃপাতী। এই সংকীর্ণ সম্পণেতার সোঁকুমায হইতে মন্তি পাওয়াই ভালো—ইহা চিরদিনের নহে এবং ইহাতে আমাদের সবাঙ্গীণ তৃপ্তি নাই। অপরাধ মত্ত গজের ন্যায় আসিয়া এখানকার পদ্মপত্রের বেড়া ভাঙিয়া দিল, আলোড়নের বিক্ষোভে সমস্ত চিত্তকে উমথিত করিয়া তুলিল। সহজ বগ এইরপে সহজেই নষ্ট হইল, বাকি রহিল সাধনার সবগ। অনন্তাপের বারা তপস্যার বারা সেই সবগ যখন ঞ্জিত হইল, তখন আর কোনো শঙ্কা রহিল না। এ সবগ শাশ্বত। মানুষের জীবন এইরুপ—শিশ যে সরল সবগে থাকে তাহা সন্দের, তাহা সপণ, কিন্তু ক্ষুদ্র। মধ্যবয়সের সমস্ত বিক্ষেপ ও বিক্ষোভ, সমস্ত অপরাধের আঘাত ও অনতাপের দাহ জীবনের পণবিকাশের পক্ষে আবশ্যক। শিশুকালের শান্তির মধ্য হইতে বাহির হইয়া সংসারের বিরোধবিপ্লবের মধ্যে না পড়িলে পরিণত বয়সের পরিপণ শান্তির আশা ব্যথা। প্রভাতের সিনগধতাকে মধ্যাহ্নতাপে দগধ করিয়া তবেই সায়াহ্নের লোকলোকান্তরব্যাপী বিরাম। পাপে-অপরাধে ক্ষণভঙ্গরকে ভাঙিয়া দেয়, এবং অনন্তাপে বেদনায় চিরস্থায়ীকে গড়িয়া তোলে। শকুন্তলা কাব্যে কবি সেই সবগচাতি হইতে সবগ প্রাপিত পর্যন্ত সমস্ত বিবত করিয়াছেন। বিশ্বপ্রকৃতি যেমন বাহিরে প্রশান্ত সন্দের, কিন্তু তাহার প্রচণ্ড শক্তি অহরহ অভ্যন্তরে কাজ করে, অভিজ্ঞানশকুন্তল নাটকখানির মধ্যে আমরা তাহার প্রতিরপ দেখিতে পাই। দষান্ত-শকুন্তলার মধ্যে যেটুকু প্রেমালাপ আছে তাহা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তাহার অধিকাংশই আভাসে ইঙ্গিতে ব্যক্ত হইয়াছে, কালিদাস কোথাও রাশ আলগা করিয়া দেন নাই। অনা কবি যেখানে লেখনীকে দৌড় দিবার অবসর অন্বেষণ করিত, তিনি সেইখানেই তাহাকে হঠাৎ নিরস্ত করিয়াছেন। দষান্ত তপোবন হইতে রাজধানীতে ফিরিয়া গিয়া শকুন্তলার কোনো খোঁজ লইতেছেন না। এই উপলক্ষে বিলাপপরিতাপের কথা অনেক হইতে পারিত, তব শকুন্তলার মাখে কবি একটি কথাও দেন নাই। কেবল দলবাসার প্রতি আতিথ্যে অনবধান লক্ষ্য করিয়া হতভাগিনীর অবস্থার আমরা যথাসম্ভব কল্পনা করিতে পারি। শকুন্তলার প্রতি কণের একান্ত নেহ বিদায়কালে কী সকরণ গাভীর্য ও সংযমের