পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শকুন্তলা షిరి সহিত কত অলপ কথাতেই ব্যক্ত হইয়াছে। অনসয়া-প্রিয়ংবদার সখীবিচ্ছেদবেদনা ক্ষণে ক্ষণে দটি-একটি কথায় যেন বধি লঙ্ঘন করিবার চেষ্টা করিয়া তখনি আবার অন্তরের মধ্যে নিরস্ত হইয়া যাইতেছে। প্রত্যাখ্যান-দশো ভয় লন্জা অভিমান অননয় ভৎসনা বিলাপ সমস্তই আছে, অথচ কত অপের মধ্যে। যে শকুন্তলা সখের সময় সরল অসংশয়ে আপনাকে বিসজন দিয়াছিল, দঃখের সময় দারুণ অপমানকালে সে যে আপন হদয়বৃত্তির অপ্ৰগলভ মযাদা এমন আশ্চৰ্য সংযমের সহিত রক্ষা করিবে, এ কে মনে করিয়াছিল। এই প্রত্যাখ্যানের পরবতী নীরবতা কী ব্যাপক, কণী গভীর। কণৰ নীরব, অনসয়া-প্রিয়ংবদা নীরব, মালিনীতীর-তপোবন নীরব। সবাপেক্ষা নীরব শকুন্তলা। হৃদয়বৃত্তিকে আলোড়ন করিয়া তুলিবার এমন অবসর কি আরকোনো নাটকে এমন নিঃশব্দে উপেক্ষিত হইয়াছে। দষাতের অপরাধকে দবাসার শাপের আচ্ছাদনে আবত করিয়া রাখা, সেও কবির সংযম। দুষ্ট প্রবত্তির দরক্তপনাকে অবারিতভাবে উচ্ছৃঙ্খলভাবে দেখাইবার যে প্রলোভন, তাহাও কবি সংবরণ করিয়াছেন। তাঁহার কাব্যলক্ষয়ী তাঁহাকে নিষেধ করিয়া বলিয়াছেন : ন খলা ন খল বাণঃ সন্নিপাত্যোহয়মস্মিন মদানি মগশরীরে পড়পরাশাবিবানিঃ। দষ্যন্ত যখন কাব্যের মধ্যে বিপল বিক্ষোভের কারণ লইয়া মত্ত হইয়া প্রবেশ করিলেন, তখন কবির অন্তরের মধ্যে এই ধৰনি উঠিল : মতো বিঘাতপস ইব নো ভিন্নসারঙ্গযথো ধমারণ্যং প্রবিশাঁত গজঃ সান্দনালোকভীতঃ। তপস্যার মতিমান বিঘ্যের ন্যায় গজরাজ ধমারণ্যে প্রবেশ করিয়াছে। এইবার বঝি কাব্যের শান্তিভঙ্গ হয়—কালিদাস তখনি ধমীরণ্যের, কাবাকাননের এই মাতিমান বিঘ্যকে শাপের বন্ধনে সংযত করিলেন; ইহাকে দিয়া তাঁহার পদ্মবনের পঙ্ক আলোড়িত করিয়া তুলিতে দিলেন না। য়রোপীয় কবি হইলে এইখানে সাংসারিক সত্যের নকল করিতেন— সংসারে ঠিক যেমন, নাটকে তাহাই ঘটাইতেন। শাপ বা অলৌকিক ব্যাপারের বারা কিছুই আবত করিতেন না। যেন তাঁহাদের পরে সমস্ত দাবি কেবল সংসারের, কাব্যের কোনো দাবি নাই। কালিদাস সংসারকে কাব্যের চেয়ে বেশি থাতির করেন নাই; পথে-ঘাটে যাহা ঘটিয়া থাকে তাহাকে নকল করিতেই হইবে এমন দাসখং তিনি কাহাকেও লিখিয়া দেন নাই—কিন্তু কাব্যের শাসন