পাতা:সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড.djvu/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূমিকা ১৫ ঐতিহাসিকের উপর। তবে এদিক দিয়া অতীত ও বর্তমান যুগের সংবাদপত্রের মধ্যে একট গুরুতর প্রভেদ আছে। মোটামুটি বলা যাইতে পারে, এ-যুগের সংবাদপত্র বিগত শতাব্দীর সংবাদপত্র অপেক্ষ অনেক বেশী মিথ্যাচারী। ইহার কারণ–বৰ্ত্তমান যুগে গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্র । এ-যুগে জন-সমষ্টিকে স্বপক্ষে টানিতে না পারিলে শাসনক্ষমতা লাভ করা চলে না । সেজন্য সত্য হউক মিথ্যা হউক যা-কিছু একটা স্তোকবাক্যে প্রবোধ দিয়া লোককে নিজের দলে টানা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই একটা জীবন-মরণের ব্যাপার হইয়া দাড়াইয়াছে ; এই কাজের ভার পড়িয়াছে, প্রত্যেক দলের সংবাদপত্রের উপর। এই কারণে বৰ্ত্তমান যুগের সংবাদপত্রের শুধু মতামতই নয়, সংবাদ-পৰ্য্যস্ত অনেক সময়ে অতিশয় বিকৃত । ইহার দৃষ্টান্তস্বরূপ ইংলণ্ডে লর্ড রদারমিয়ারের, ও আমেরিকায় মিঃ হারষ্টের পরিচালিত সংবাদপত্রগুলির উল্লেখ করিলেই যথেষ্ট হইবে । এইরূপ দলীয় কাগজ উনবিংশ শতাব্দীতে খুব কম ছিল, জনমত-গঠনও সংবাদপত্রের প্রধান কাজ বলিয়া বিবেচিত হইত না । সেজন্য বিশুদ্ধ সংবাদপত্র হিসাবে সেই পূৰ্ব্বতন যুগের কাগজগুলি অনেক বেশী বিশ্বাসযোগ্য। অবশু তাহাতেও যে সত্যের বিকৃতি ও ভুল ভ্রাস্তি না থাকিত তাহা নয়, তবে এক পক্ষের কথা ভিন্ন অন্য পক্ষের কথা না বলা এযুগের সংবাদপত্রের যেমন একটা বিশিষ্ট ধৰ্ম্ম হইয়া দাড়াইয়াছে, সে-যুগে সাধারণতঃ তেমন ছিল ন। এই কারণে ইতিহাসের উপকরণ হিসাবে তখনকার সংবাদপত্রগুলি এ-যুগের সংবাদপত্র অপেক্ষ অনেক বেশী মূল্যবান। ঘটনার তারিখ ও ব্যক্তির নাম সম্বন্ধে সমসাময়িক সংবাদপত্রের প্রমাণ যে অকাট্য তাহা বলাই বাহুল্য । ব্রিটিশ প্রভুত্ব স্থাপনের সময় হইতেই বাংলা দেশে অনেকগুলি ইংরেজী সংবাদপত্র প্রকাশিত হইয়াছিল, কিন্তু বাংলা ভাষায় লিখিত সংবাদপত্রের ইতিহাস খুব প্রাচীন নহে। বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র কি, সে-বিষয়ে একটু সংশয়ের অবকাশ আছে। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের ‘বাঙ্গাল গেজেট’ ও ‘সমাচার দর্পণ দুই-ই এই সম্মানের দাবী করে । কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ইহাদের মধ্যে ‘বাপাল গেজেটি ঠিক কোন তারিখে প্রথম প্রকাশিত হইয়াছিল তাহ নিৰ্দ্ধারণ করিবার উপায় নাই। এই বিষয়ে যাহাদের কৌতুহল আছে র্তাহারা আমার রচিত ‘দেশীয় সাময়িক পত্রের ইতিহাসে বিস্তারিত আলোচনা পাইবেন। এখানে সেই আলোচনার পুনরাবৃত্তি না করিয়া এইটুকু বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে, দুইটি পত্রিকার মধ্যে প্রথম প্রকাশ কালের ব্যবধান থাকিলেও দশ-পনর দিনের বেশী হইবার নহে। তবে একেবারে প্রথম হউক আর নাই হউক, ‘সমাচার দর্পণ যে সে-যুগের শ্রেষ্ঠ সংবাদপত্র ছিল, সে-বিষয়ে সন্দেহ নাই। দেশী ও বিলাতী সংবাদ, নানাবিষয়ক প্রবন্ধ, ইংরেজী ও বাংলা সাময়িক পত্রের সারসঙ্কলন, সামাজিক আচার-ব্যবহারের বর্ণনা, প্রভৃতি জ্ঞাতব্য তথ্যে উহ পূর্ণ থাকিত এবং মিশনরী-পরিচালিত হইলেও উহাতে পরধর্মের কুৎসা অথবা খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে আলোচনা স্থান পাইতই না বলিলে অন্যায় হয় না । স্থায়িত্বের দিক হইতেও ‘সমাচার দর্পণ" শ্রেষ্ঠ । ‘বাঙ্গাল গেজেটি বৎসরখানেক চলিয়া বন্ধ হইয়া যায়।