পাতা:সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড.djvu/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমাজ $ఢన অনেক লোকেরদিগকে ডাকিয়া তদ্বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন তাহাতে তাহারা সকলেই কহিল যে এতদ্দেশীয় লোকেরা ইউরোপীয় কোন বস্তুর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না এবং ইউরোপীয় দ্রব্য এ দেশের মধ্যে বিক্রয় করা অতিশয় দুঃসাধ্য হইবে । কিন্তু পালিমেণ্ট তাহারদের পরামর্শ ন৷ শুনিয়া ইংলণ্ড দেশের তাবৎ মহাজনেরদিগকে এতদ্দেশে দ্রব্য প্রেরণ করিতে অনুমতি দিলেন । গত বার বৎসরের মধ্যে অনিবাৰ্য্যরূপে ইংল্পওঁীয়েরদের তদেশে উত্তমরূপে বাণিজ্যকৰ্ম্ম চলিতেছে তাহাতে ঐ সাহেবের পরামর্শের অমূলকতা অতিশয় প্রকাশ পাইয়াছে তুলার কাপড়ের যেরূপ আমদানীর বৃদ্ধি হইয়াছে তাহ অতি আশ্চৰ্য্য। বিশেষতঃ ১৮১৫ সালে দশ লক্ষ টাকার বস্ত্র ইংল্পগুদেশহইতে এ দেশে আসিয়া বিক্রীত হয় ১৮১৬ সালে ১৪ লক্ষ টাকা। ১৮১৭ সালে ১৬ লক্ষ টাকা। ১৮১৮ সালে ৪২ লক্ষ টাকা। ১৮১৯ সালে ৭০ লক্ষ টাকা। ১৮২০ সালে ৪৬ লক্ষ টাকা। ১৮২১ সালে ৮৫ লক্ষ টাকা। ১৮২২ সালে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকার কাপড় এ দেশে আসিয়া বিক্রীত হয় ইহাতে দেখা যায় যে বাণিজ্যকর্মের উত্তরে ট্রর বাহুল্য হইতেছে। ( ১৫ ডিসেম্বর ১৮২৭ । ১ পৌষ ১২৩৪ ) বাণিজ্য –১৭৯২ সাল ও ১৮২২ সালের বাঙ্গালার ও ইংগ্লিণ্ডের আমদানি রপ্তানি দ্রব্যের এক হিসাব পাওয়া গিয়াছে তাহাতে দেখা যায় যে এই উভয় দেশের মধ্যে কিপ্রকার বাণিজ্য বৃদ্ধি হইয়াছে। এদেশহইতে রপ্তানি প্রব্যের মধ্যে নীল প্রধানরূপে গণ্য তাহ ১৭৯২ সালে ৭২৬৬ মৌনমাত্র এখানহইতে ইংগ্রণ্ডে রপ্তানি হয় এবং বর্তমান বৎসরে যে নীল রপ্তানি হইবে তাহা প্রায় এক লক্ষ মোনের অধিক হইবে কিন্তু অন্য পক্ষে বস্ত্রের বিষয়ে রপ্তানির অতিঅল্পতা হইয়াছে যেহেতুক ১৭৯২ সালে এ দেশহইতে বার লক্ষ তেইশ হাজার থান কাপড় ইংল্লণ্ডে যায় তৎপরে এই বাণিজ্য এমত পতিত হয় যে ১৮২২ সালে কেবল এক লক্ষ থান কাপড় এদেশহইতে রপ্তানি হয়। ইহাতে দেখা যায় যে ইহার ত্রিশ বৎসর পূৰ্ব্বে যত রপ্তানি হইত তাহার বার ভাগের এক ভাগ এক্ষণে রপ্তানি হয়। পুনশ্চ যদি আমরা আমদানির দিগে দৃষ্টি করি তবে দেখিতে পাই যে বাণিজ্যবিষয়ে এমত বৃদ্ধির তুলনা নাই যেহেতুক ১৭৯২ সালে এতদ্দেশে ১৬৫ টাকার বিলাতী কাপড় আমদানি হয় এবং ১৮২২ সালে এক কোটি চৌদ্দ লক্ষ টাকার কাপড় এদেশে আমদানি হয়। এই উভয় একত্র করিলে দেখা যায় যে এদেশের এমত রপ্তানির নূ্যন হইয়াছে যে বার ভাগের এক ভাগ মাত্র বশিষ্ট আছে এবং আমদানির অতিশয় বৃদ্ধি হইয়াছে। এই আমদানির বৃদ্ধি হওয়াতে যে তাতিরদের ব্যবসায় একেবারে লুপ্ত হইল ইহাতে কিছু সন্দেহ নাই। ১৭৯২ সালে তের লক্ষ টাকার তাম্র এদেশে আমদানি হয় এবং ১৮২২ সালে একেবারে ত্ৰিশ লক্ষ টাকার তাম্র আইসে। পাতি লোহার আমদানিরও অতিশয় বৃদ্ধি হইয়াছে ১৭৯২ সালে দুই লক্ষ সত্তরি হাজার টাকার লোহার আমদানি হয় এবং ১৮২২ সালে পোনর লক্ষ টাকার লোহা আইসে। ঘড়ী ও রূপাময় বাসনের আমদানিরও অতিশয় বৃদ্ধি হইয়াছে ১৭৯২ সালে পঞ্চাশ হাজার টাকার এই সকল দ্রব্য আমদানি হইয়াছে। পশমী